‘শুভেন্দু আমার বন্ধু। আমি বুঝি ওঁকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, সমস্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়।’ বাংলায় এসে এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের সম্পর্ক ফাঁস করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এসএসবি-র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার উত্তরবঙ্গে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। সেই অনুষ্ঠান থেকে ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনদিনের জন্য রাজ্য সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সোজা শিলিগুড়ি চলে গিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার এসএসবি-র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমিত শাহ। সেখানে গিয়েই নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যের জন্য কী কী পরিবর্তন হয়েছে, কেন্দ্রের কী সুবিধা হয়েছে-তাও ব্যাখ্যা দিলেন। এ দিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমি শুভেন্দুজির ভূরি ভূরি প্রশংসা করতে চাই। যবে থেকে উনি এসেছেন, আমাদের সীমা সুরক্ষা নিয়ে যা-ই সহযোগিতার প্রয়োজন হোক, ফোন করলেই পারমিশন পাওয়া যায়। চিঠি তো পরে যায়। শুভেন্দুজি বলেছেন, এই প্রথম এসএসবি-র অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর আসার সুযোগ হয়েছে। আমি একটু সংশোধন করে বলছি, আমরা তো আগের মুখ্যমন্ত্রীকেও ডাকতাম। তিনি কখনও আসেননি। এসএসবি হোক বা বিএসএফ, এটা কোনও রাজনৈতিক দল বা সরকারি এজেন্সি নয়।
এটা দেশের সীমায় সুরক্ষায় মোতায়েন শক্তি। দল, রাজনীতি নির্বিশেষে, তা সে বাংলাতেই হোক বা কেন্দ্রে, জওয়ানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা উচিত।’ পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই ১১২৯ একর জমি, যা ২০১৪ সাল থেকে চাইছিলাম আমরা, সেই জমি শুভেন্দুজি দিয়েছেন বিএসএফ ও এসএসবি-র জন্য। ২৯ একর জমি বাকি ছিল। আজ প্রাতঃরাশে এসেছিলেন, ভাবলাম এই প্রসঙ্গ তুলি।
উনি বসেই বললেন, ২৯ একরের টাকা পেলেই পরেরদিন পারমিশন হয়ে যাবে। এতটাই তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছেন। এটা ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়। শুভেন্দুজি আমার বন্ধু, আমি বুঝি ওঁকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, সমস্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। উনি বোঝেন যে অনুপ্রবেশ না রুখলে, বাংলা বা দেশ সুরক্ষিত থাকতে পারবে না। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া প্রয়োজন।’ সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করে অমিত শাহ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হাত-পা জোড় করে বলা হয়েছে, উনি রাজি হননি।
আমি একবার ওঁর অফিসেও পৌঁছে গিয়েছিলাম বলতে যে মমতাজি, এই জমি আপনি বিজেপিকে দিচ্ছেন না। দয়া করে জমি দিন। উনি হ্যাঁ বললেন, কিন্তু জমি দিলেন না। আজ এই মঞ্চ থেকে বাংলার মানুষকে অনেক ধন্যবাদ দিচ্ছি যে আপনারা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া একটা দলকে নির্বাচিত করেছেন।’ বন্দেমাতরম নিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল সহ দেশের সব বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অমিত শাহ। শিলিগুড়ি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম গানটি পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপিত হত না। সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বন্দেমাতরমকে। মোদিজির নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে নতুন এবং আগামী প্রজন্ম প্রকৃত জাতীয়বাদের ধারণা পাবে।
এতদিন বন্দেমাতরমের পুরো স্তবক গাওয়া হতো না। স্বাধীনতার এত বছর পরেও প্রকৃত সম্মান পাননি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র। মোদিজির নেতৃত্বে সেই সম্মান দেওয়া হয়েছে।’ এদিনের মঞ্চ থেকে অমিত শাহ বলেন, ‘শুভেন্দু জি বলেছেন পুরো দেশে ন্যায় সংহিতা কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী ন্যায় সংহিতা আইন নিয়ে নোটিফিকেশন করেনি। কারণ যখনই নোটিফিকেশন হবে, তখনই সিন্ডিকেট, চুরি সব কিছুর সাম্রাজ্য চুরমার হয়ে যাবে। শুভেন্দু জি এসেই আমাদের আইনকে কার্যকর করেছে। আর এখনই ভয় কাটিয়ে ভরসা উঠে আসছে।’ তৃণমূল জমানায় ঘটে যাওয়া একাধিক অপরাধ মূলক ঘটনার কোনও বিচার এতদিন হয়নি বলে এদিন দাবি করেন শাহ। সেই সমস্ত ঘটনার উপযুক্ত বিচারেরও আশ্বাস দেন। বলেন, ‘সন্দেশখালির ঘটনা, আর জি কর-এর ঘটনা হোক, হাজরা ল’ কলেজের ঘটনা হোক, দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজের ঘটনা হোক, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন সরকার বদলেছে সব কিছুর বদল হবে।’














