‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকে রেখেছিলেন সেনসাস। ২০২৫ সালে সেনসাস চালু করার জন্য চিঠি দিয়েছিল। আমি এসেই বলেছি তাড়াতাড়ি চালু করো।’ এভাবেই শুক্রবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালী ময়দানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের পতনের পরে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসার পরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি যাবতীয় সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন শুরু হয়েছে বলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন। কার্যভার গ্রহণের পর তিন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্ত ও জাতীয় সুরক্ষা : দেশের সুরক্ষার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের ফাইলে প্রথম স্বাক্ষর করেন তিনি।
জনগণনা : বিগত তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যে জনগণনা আটকে রেখেছিল(যার জন্য ২০২৫ সালের ১৬ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিঠিও দিয়েছিলেন), তা অবিলম্বে চালুর সম্মতি দিয়ে মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা : সারা দেশে বলবৎ হলেও বাংলায় আটকে থাকা ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ ১১ মে থেকেই এ রাজ্যে চালুর নির্দেশ দেন তিনি। শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে বসে শুভেন্দু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে রাজ্যপাল আমাকে কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথবাক্য পাঠ করান। পশ্চিমবঙ্গে শুধু দলের পরিবর্তন নয়, বড় ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছি আমরা। রাজ্যে আর শাসকের আইন চলে না, সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৪ সালে চালু হয়েছে। যেখানে বিজেপি সরকার আছে ও নেই সেখানেও বিএনএস চালু হয়েছিল, শুধুমাত্র তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে বিএনএস চালু করেনি। এখন থেকে চালু বিএনএস।
দেশপ্রেম, সুরক্ষা এই বিষয়ে রাজ্য কোনও কম্প্রোমাইস করবে না। দেশ চলবে আলাদা ভাবে, রাজ্য চলবে আলাদা ভাবে এটা হতে পারে না। ভারত সরকার ও প্রদেশ সরকার কেন্দ্র সরকারের সব প্রকল্প মানুষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু দলের পরিবর্তন নয়, ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে। শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন চলছে। আমরা ক্ষমতায় এসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ বিচার পাবেন। এই পশ্চিমবঙ্গে এর আগে শাস্তি হয়েছে কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। বিএনএস-এর মাধ্যমে দ্রুত বিচার দেওয়া যাবে। এই প্রদর্শনীতে নতুন প্রজন্ম, পরবর্তী প্রজন্ম এসে ন্যায় সংহিতা সম্পর্কে জানবেন, জানাবেন।’














