দীর্ঘ সাত বছর পর ফের কোনো বাঙালি বিচারপতিকে প্রধান হিসেবে পেল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেতে চলেছেন বিচারপতি সুজয় পাল। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে তাঁর নামে চূড়ান্ত শিলমোহর দেওয়া হয়। এর আগে বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম অবসর নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে আদালতের কাজ সামলাচ্ছিলেন তিনি। মূলত ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো বাঙালি বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসলেন। প্রথা অনুযায়ী বড় খবরের বিস্তার ঘটে সময়ের সাথে। বিচারপতি পালের কর্মজীবনের পথ চলা শুরু হয়েছিল ভিন্ন রাজ্যে।
প্রবাসী বাঙালি পরিবারে জন্মানো সুজয় পালের শৈশব ও বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রদেশে। এলএস ঝা মডেল স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি জব্বলপুরের রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১১ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেছেন। তবে তাঁর পেশাগত জীবনে নাটকীয় মোড় আসে যখন তাঁর পুত্র মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টেই ওকালতি শুরু করেন। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তাঁকে তেলঙ্গানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ২৬ মে বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন কলেজিয়াম তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করেছিল। সেই সময় থেকেই তিনি এই আইনি আঙিনায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বিচারপতি সৌমেন সেনের নাম মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে সুপারিশ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব বর্তায় বিচারপতি পালের ওপর।
অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কলেজিয়ামের সুপারিশে পাকাপাকিভাবে তিলোত্তমার বিচারবিভাগীয় প্রধান হলেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শেষবার কোনো বাঙালিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দেখেছিল কলকাতা। ফলে এই নিয়োগ বিচারবিভাগীয় মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফাইল ফটো ।













