আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাসকে (৭ শতাংশ) ছাপিয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের এই তথ্যে উচ্ছ্বসিত সরকারি মহল হলেও, পরিসংখ্যানের সত্যতা ও পদ্ধতি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।
অর্থনৈতিক মূল্যায়ন সংস্থা ‘ক্রিসিল’-এর মতে, এই বৃদ্ধির নেপথ্যে মূলত কাজ করেছে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়, সরকারি পরিকাঠামো বিনিয়োগ এবং রফতানি বাণিজ্য। গাড়ি বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি পরিষেবা ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং উৎপাদন শিল্পে ৯.২ শতাংশ বৃদ্ধি সার্বিক অগ্রগতিকে শক্তি জুগিয়েছে। সরকারের মূলধনি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩.৭ শতাংশ। তবে এই উজ্জ্বল ছবির বিপরীতে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তাঁর দাবি, আগের অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি হিসাবকে ইচ্ছাকৃতভাবে ৮৬ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ লক্ষ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। আগের বছরের ভিত কৃত্রিমভাবে ছোট করার কারণেই চলতি বছরে ১০.৩ শতাংশের নমিনাল বৃদ্ধির বিভ্রান্তিকর ছবি তৈরি হয়েছে, যা না করলে প্রকৃত বৃদ্ধি হতো মাত্র ২.৬ শতাংশ। বিরোধীরাও পরিসংখ্যানকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর অভিযোগ তুলেছে।
পাল্টা যুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা জানিয়েছেন, অর্থনীতিতে কাঠামোগত বদলের কারণে ভিত্তি বছর ২০১১-১২ থেকে বদলে ২০২২-২৩ করা হয়েছে। ফলে নতুন আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে হিসাব করার কারণেই তথ্যে এই পুনর্বিন্যাস, কোনো কারচুপি নয়। এদিকে প্রথম ত্রৈমাসিকে ভালো ফলের পরেও জুনে দুর্বল বর্ষা ও খরিফ চাষে বিলম্বের কারণে কৃষিক্ষেত্রে কিছুটা শ্লথগতি সামনে এসেছে, যা আগামী দিনগুলিতে এই উচ্চ বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।














