স্থায়ী চাকরি, ন্যায্য বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের পথে নামতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বীকৃত আন-এডেড মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীরা। সল্টলেকে ধরনার অনুমতি পুলিশ না দেওয়ায় শেষমেশ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল আন-এডেড মাদ্রাসা ঐক্য মঞ্চ। শনিবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে এই সংগঠনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছেন । আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সল্টলেকের পরিবর্তে এই আন্দোলন কর্মসূচি হবে কলেজ স্কোয়ারের বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দিকে।
তবে, হাইকোর্ট কিছু শর্ত আরোপ করেছে। আন্দোলনে ২০০ জনের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত থাকতে পারবেন না। শব্দ দূষণ বিধি মেনে মাইক ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো উস্কানিমূলক মন্তব্য করা চলবে না। পাশাপাশি, সরকারি সম্পত্তির যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেই দিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, রাজ্যের ২৩৫টি অনুমোদিত মাদ্রাসার সঙ্গে প্রায় ২৫০০-এর বেশি শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী যুক্ত আছেন, যাদের কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানগুলির অনধিক ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া জামা-জুতো, ব্যাগ তারা পাচ্ছে না।
এমনকি, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া মিড ডে মিল থেকেও পিছিয়ে পড়া এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ছাত্রছাত্রীদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে ঐক্য মঞ্চের দাবি। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে এই মাদ্রাসাগুলি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেলেও দীর্ঘ আট বছর পর, ২০২১ সালে এক আন্দোলনের পরে সরকার ন্যূনতম সাম্মানিক দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে গ্রুপ-ডি কর্মীরা মাসে ৫০০০ টাকা, গ্রুপ-সি ৫,৫০০ টাকা, গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক ৬০০০ টাকা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক ১২,০০০ টাকা সাম্মানিক পান।
ওয়েস্ট বেঙ্গল আন-এডেড মাদ্রাসা ঐক্য মঞ্চের দাবি, বর্তমান সময়ে অনুদানভিত্তিক এই সাম্মানিক অত্যন্ত নগন্য। কোনো সুরাহা না হওয়ায় ঐক্য মঞ্চ এখন দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের পথে হাঁটছে। সংগঠনের নেতৃত্বের আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে ২৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস অনিবার্য এবং প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রীর স্কুলছুট (ড্রপ-আউট) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগামী ১৭ ডিসেম্বর কলেজ স্কোয়ারে এই অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হবে।















