Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

২০ বছরের খরা কাটলেও কাটল না জট, সাংবিধানিক জটে সোমে বিএনপির শপথ

২০ বছরের খরা কাটলেও কাটল না জট, সাংবিধানিক জটে সোমে বিএনপির শপথ

গণতন্ত্রের উৎসবে জয় এসেছে অনায়াসে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের কুর্সিতে ফিরছে বিএনপি। কিন্তু ভোট মিটলেও এখনই শপথ নিতে পারছেন না নতুন বিজয়ীরা। জনজোয়ারে জিতে আসা সাংসদদের ঘিরে উৎসবের মেজাজ থাকলেও মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে আইনি মারপ্যাঁচে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের আগে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠন হওয়া কার্যত অসম্ভব। আর এই গোটা পরিস্থিতির মূলে রয়েছে দেশের সংবিধানে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত জটিলতা।

নির্বাচনের ফলাফল বলছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়েছে এবং শুক্রবার গণনা শেষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি। তারা জিতেছে ২১২টি আসনে। শরিক দল জামাত ও অন্যরা মিলে পেয়েছে ৭৭টি আসন। সব মিলিয়ে জয়ের পাল্লা বিপুলভাবে ভারী থাকলেও সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশের পর থমকে আছে সরকার গঠনের চাকা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ইউনূসের দফতরের সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠিত হতে পারে। সংসদ সদস্যেরা যে দিন শপথ নেবেন, সে দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা শপথ নিতে পারবেন। শপথ পাঠ করাতে পারেন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন।

এই বিলম্বের কারণ খুঁজতে গেলে তাকাতে হচ্ছে সংসদের স্পিকারের চেয়ারের দিকে। বাংলাদেশের সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। কিন্তু ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুও আপাতত শ্রীঘরে। সংবিধান বলছে, নতুন কেউ দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত পুরনো স্পিকারই পদে বহাল থাকেন। কিন্তু শিরীন শারমিন নিরুদ্দেশ হওয়ায় বা কাউকে মনোনীত না করে যাওয়ায় আইনি শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সংবিধানের রক্ষাকবচ অনুযায়ী, স্পিকার শপথ করাতে না পারলে ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হয়। সেই তিন দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পরেই আসরে নামতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সেই হিসেব কষলে শুক্রবার গেজেট প্রকাশের পর সোমবারের আগে আইনিভাবে শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। ফলে বিজয়োল্লাস চললেও আইনি কাঠামোর কারণেই আপাতত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিএনপি শিবিরকে। ইউনূস প্রশাসন অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে অন্য কোনো বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে আপাতত সোমবারের আগে বাংলাদেশের সংসদ ভবনে নতুন সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফাইল ফটো।

READ MORE.....