তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাসে ভয়ংকর মুহূর্তে কেটে গেল। তিনি আর কেউ নন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বুধবার ঘড়ির কাঁটায় বিকাল চারটা থেকে পাঁচটা বাজে। বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়িতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে আছেন অনুব্রত মণ্ডল। আচমকাই তিনজন যুবক চ্যালা কাঠ হাতে, মুখে কাপড় বেঁধে তৃণমূল পার্টি অফিসের চড়াও। একের পর এক ভাঙচুর, কার্যত তাণ্ডব লীলা চালালো তিনজন যুবক।
অসহায় অনুব্রত মণ্ডল তখন পার্টি অফিসের চেয়ারেই বসে। তিনজন যুবক অনুব্রতকে প্রশ্ন করছেন ? ১৫ বছরে বিরাট সর্বনাশ করেছ। প্রচুর মানুষের ক্ষতি হয়েছে। কেন এমন করেছ। হাতে চেলা কাঠ, মাঝেমধ্যে অনুব্রতর দিকে বাড়ি মারতে যাচ্ছেন। অসহায় অনুব্রত কার্যত জোড়হাত করছে। এই ছবি সামনে আসতেই বীরভূম তো বটেই গোটা রাজ্য রাজনীতি মানুষজন অবাক! এটা অনুব্রত মণ্ডলের ছবি বটে তো ? প্রশ্ন সকলের! কারণ, যে অনুব্রত মণ্ডল পুলিশকে বোম মারবো বলেছিলেন। যে অনুব্রত দাপটে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত। যে কেষ্ট মন্ডল এর দাপটে বাতাস দিক পরিবর্তন করত। সেই অনুব্রত মণ্ডল কে জোড়হাত করতে হচ্ছে। ভয়ে কাতর অনুব্রত। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “ভাই তোমরা আমাকে ভালোবাসো তো ? যদি ভালোবেসে থাকো, এখান থেকে চলে যাও।
আমি কিছু বলবো না।” বীরভূম জেলায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী হিসেবে পরিচিত কাজল শেখ। তৃণমূল বিধায়ক কাজল বলেন, “পুরো গল্পটাই নাটক। সাজানো। অনুব্রত মণ্ডল নিজেকে নিরাপত্তাই মুড়ে ফেলতে চাইছে। তাই সাজিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। যাতে কেষ্ট মন্ডল সিকিউরিটি পায়।” পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ওই তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে এই তিন যুবকের বাড়ি সিউড়ির হাটজন বাজারে। পুরো ঘটনায় তোলপাড় গোটা বীরভূম জেলা।















