বারবার রাস্তায় নেমে আজাদি স্লোগান তোলার প্রবণতা আদতে বিজেপি-আরএসএসকেই রাজনৈতিক সুবিধা করে দিচ্ছে বলে মনে করছে সিপিএমের একাংশ। তাঁদের যুক্তি, এই স্লোগানকে হাতিয়ার করে লাল ঝান্ডাধারীদের দেশদ্রোহী তকমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি কল্যাণীতে অনুষ্ঠিত দলের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনে একাধিক প্রতিনিধি এই বিষয়ে পর্যালোচনার দাবি তোলেন।দলের একাংশের বক্তব্য, প্রয়োজন ছাড়া বারবার আজাদি স্লোগান তোলায় বামেদের মূল দাবি- রুটি, রুজি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন থেকে জনমানসের নজর সরে যাচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে বিরোধীরা।
যদিও সিপিএম স্পষ্ট করেছে, আজাদি কোনওভাবেই দেশবিরোধী স্লোগান নয়, তবু আন্দোলনের মূল ইস্যু যাতে চাপা না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক হতে চাইছে দল।পার্টির একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে, অতীতে তৃণমূল আমলে জয় বাংলা, খেলা হবে-র মতো স্লোগান ঘিরেও রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল, যার ফলে দাবিভিত্তিক আন্দোলন মূল অভিমুখ হারিয়েছিল।
একই কৌশল এবার বিজেপি-আরএসএস নিতে পারে বলে আশঙ্কা কমরেডদের। তবে স্লোগান নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন নয়, বরং তার প্রয়োগ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্কতা জরুরি বলে মত পার্টির।সিপিএমের একাংশের বক্তব্য, প্রতিপক্ষের তৈরি বিতর্কে না জড়িয়ে মানুষের রুটি-রুজি, কাজ, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দাবিকে সামনে রেখেই বৃহত্তর জনসমাজকে আন্দোলনে সামিল করাই এখন দলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন কমরেডরা।














