বিশ্ব হকির শক্তির ভারসাম্যে বড়সড় পরিবর্তন। এদিন স্পেনকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপ জিতেছে জার্মানি। এই নিয়ে তাদের বিশ্বকাপ খেতাবের সংখ্যা দাঁড়াল চার। ২০০২, ২০০৬ ও ২০২৩-এর পর ২০২৬-এ ফের বিশ্বসেরা হয়ে জার্মানি ছুঁয়ে ফেলেছে পাকিস্তানের ৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড। একই সঙ্গে ইউরোপের দাপট আরও স্পষ্ট হয়েছে।
একসময় বিশ্ব হকির অন্যতম দুই শক্তি ছিল ভারত ও পাকিস্তান। প্রথম আটটি বিশ্বকাপের মধ্যে পাঁচটিই গিয়েছিল এই দুই এশীয় দেশের ঘরে। এশিয়ার মোট পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে পাকিস্তানের চারটি এবং ভারতের একটি। জার্মানির চতুর্থ শিরোপার পর ইউরোপের দখলে মোট সাতটি বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে তিনটি।এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে শক্তিশালী ঘরোয়া লিগ, পেশাদারিত্ব, উন্নত কোচিং এবং পরিকল্পিত পরিকাঠামো। বিপরীতে পাকিস্তানের হকি পরিকাঠামোর অভাবে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। বিশ্বমঞ্চে ইউরোপের অন্য দেশগুলির সাফল্যও সেই ছবিই তুলে ধরছে।
নেদারল্যান্ডস বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। গত এক দশকে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক—দুই মঞ্চেই সোনা জিতেছে বেলজিয়াম। এবারের বিশ্বকাপে রানার্স স্পেনও নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে।ভারতের ক্ষেত্রে ছবিটা মিশ্র। বিশ্বকাপে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ৫১ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপার সন্ধানে নেমে এবার অষ্টম স্থানে শেষ করেছে ভারত। তবে অলিম্পিকে আটটি সোনা এখনও তাদের ঐতিহাসিক শক্তির প্রমাণ। টোকিও ও প্যারিস থেকেও পদক এসেছে।আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আইচি-নাগোয়ায় শুরু এশিয়ান গেমস। সেখানে ভারত ফেভারিট হলেও শুধু এশিয়ার সেরা হওয়া যথেষ্ট নয়। বিশ্ব হকিতে ইউরোপের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো, উন্নত পরিকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এখনই জোর দিতে হবে।














