ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে এবার মামলা গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে । শুক্রবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ মামলার অনুমতি দিয়েছে। আবেদনকারী চেয়েছেন, আদালতের নজরদারিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। একই সঙ্গে সময়সীমা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।আবেদনকারীর যুক্তি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে রাজ্যে।
নির্বাচন কমিশন কেন এই প্রক্রিয়া চালু করেছে, তা বিস্তারিতভাবে আদালতের কাছে জানানো দরকার। পাশাপাশি তাঁর দাবি, ২০০২ সালের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশ করুক কমিশন। আদালতে আবেদনকারী জানান, এখনও বহু মানুষ জানেন না এসআইআর আসলে কী। বিভিন্ন দল নিজেদের মতো করে প্রচার করছে, যা আতঙ্ক তৈরি করছে মানুষের মনে। গত ২৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, বাংলা-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্মপূরণ করবেন বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা, আর ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত তালিকা। এই প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, এসআইআর-এর নাম করে এনআরসি আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি, বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে রাস্তায় নামবে দল। উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম ও কোচবিহারে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে এই আতঙ্ক থেকে। অন্যদিকে, বিজেপি জানিয়েছে, বিরোধীরা অযথা ভয় দেখাচ্ছে।
কমিশনের বক্তব্য, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, আদালতের তত্ত্বাবধানে এসআইআর প্রক্রিয়া হলে বিভ্রান্তি কমবে এবং ন্যায্যতা বজায় থাকবে। তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সময়সীমা শেষ হওয়া বাস্তবসম্মত নয়, কারণ বহু নাগরিক পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজ্যের বাইরে। তাঁদের ফেরার সুযোগ দিতে অন্তত জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো উচিত। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা শুনানির বিষয়ে আগামী সপ্তাহে পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে। এখন নজর সবার আদালতের নির্দেশের দিকে।














