নিজস্ব ইতিহাস মুছে ফেলার এক ‘আত্মঘাতী’ খেলায় মেতেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বাদ দিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। শুধু তাই নয়, কোপ পড়েছে সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমী এবং বুদ্ধ পূর্ণিমার মতো ধর্মীয় উৎসবের ছুটিতেও। ওপার বাংলার এই মৌলবাদী পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এপার বাংলার তিন দিকপাল ব্যক্তিত্ব শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, পবিত্র সরকার এবং সুবোধ সরকার।
তাঁদের সাফ কথা, নিজের শিকড় উপড়ে ফেলার এই চেষ্টা আদতে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর এক চরম আঘাত। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতে, বাংলাদেশে এখন এক ‘আত্মঘাতী’ আন্দোলন চলছে। তাঁর আক্ষেপ, যে দেশের হাত ধরে গোটা পৃথিবী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে, তারাই আজ সেই গৌরবকে ত্যাগ করতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলা ভাষাকে সরিয়ে যদি উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তা সে দেশের মানুষের অমঙ্গলই ডেকে আনবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে কোপ পড়ায় সে দেশে ক্রমবর্ধমান হিন্দুবিদ্বেষ ও মৌলবাদের উত্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘ঘুণপোকা’র স্রষ্টা।
অন্যদিকে, কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন প্রবীণ ভাষাবিদ পবিত্র সরকার। তাঁর কথায়, নিজেদের ইতিহাসকেই লাঞ্ছিত করছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর সামনে প্রায় উলঙ্গ হওয়ার মতো অবস্থা ওদের! পবিত্রবাবুর আশঙ্কা, এরপর হয়তো রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সঙ্গীত বর্জন বা পাকিস্তানের দাসত্ব স্বীকারের দাবিও উঠতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্কুরেই যে বড় আঘাত পড়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি একে ‘মর্মান্তিক লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন।
কবি সুবোধ সরকার অবশ্য মনে করেন, ‘হোয়াইটওয়াশ’ করে ইতিহাস মোছা অসম্ভব। তাঁর প্রশ্ন, একাত্তরের লড়াই বা মুজিবর রহমানকে কি চাইলেই মন থেকে মুছে দেওয়া যায়? তাঁর দাবি, নতুন শাসকরা আসলে বাঙালির অতীত গৌরব ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চাইছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের আবেগ কোনোদিনও এভাবে মুছে ফেলা যাবে না। মৌলবাদের এই কালো ছায়া ওপার বাংলার ধর্মনিরপেক্ষ পরিচিতিকেই আজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ঢাকার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কার্যত উত্তাল দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মহল।












