সবে শুরু হয়েছে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কেউ আগে পৌঁছবে, কেউ পরে পৌঁছবে। রাস্তা তো খোলাই আছে!— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। স্পষ্টতই বোঝাতে চাইলেন, একাধিক অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে ভবিষ্যতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে জেলেও যেতে হতে পারে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার ম্যারাথন ইডি জিজ্ঞাসাবাদের পর, নির্বাচন চলাকালীন উস্কানিমূলক মন্তব্যের (ডিজে কাণ্ড) অভিযোগে মঙ্গলবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর তিন দিন ধরে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
এর পাশাপাশি ত্রাণ দুর্নীতি থেকে শুরু করে মাটি চুরির মতো গুরুতর অভিযোগেও বিদ্ধ তিনি।মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, আগে মানুষ ভয়ে অভিযোগ করতেন না, এখন সেই ভয় কেটে গিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আসতে পারে। ফলতার তৃণমূল নেতা এবং অভিষেক-ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দিলীপ ইঙ্গিত দিলেন, আগামী দিনে অভিষেকের ক্ষেত্রেও এমন দৃশ্য দেখা যেতে পারে।কয়লা পাচার মামলা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণে ত্রিপল চুরি — বিগত জমানার একের পর এক কেলেঙ্কারির অভিযোগে গলা জলে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি নতুন অভিযোগ উঠেছে বেআইনিভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি কেটে পাচার করার।
এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা ও বিগত লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি।মাটি চুরির এই মামলায় শুধু অভিষেক নন, জড়িয়েছে আরও একাধিক হেভিওয়েটের নাম। বিজেপি নেতার দায়ের করা এফআইআর-এ অভিষেক ছাড়াও তাঁর পলাতক আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-সহ মোট ২৩ জনের নাম রয়েছে।প্রসঙ্গত, ডায়মন্ড হারবারের এই বিজেপি নেতার সঙ্গে তৃণমূলের আইনি সংঘাত বেশ পুরনো। ২০২০ সালে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের ত্রিপল বেআইনিভাবে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে মজুত করার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ববি। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সাংসদের প্রত্যক্ষ মদতেই ২৫০ কোটি টাকার সেই ত্রাণ কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।













