বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের চড়া দাম এবং আন্তর্জাতিক বন্ডের আয়ের চাপের মুখে ভারতীয় মুদ্রা টাকার ঐতিহাসিক পতন ঠেকাতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। চলতি বছরে ডলারের তুলনায় টাকার দর সাত শতাংশেরও বেশি পড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে খোলা বাজার থেকে তেল সংস্থাগুলির ডলার কেনা বন্ধ করতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
একই সঙ্গে ফরেক্স ডেরিভেটিভ বাজারে ফাটকাবাজি রুখতে নিয়মে আনা হলো বড়সড় রাশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রধান তেল বিপণন সংস্থা—ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের দৈনন্দিন ডলারের চাহিদা মেটানো হবে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল থেকে। অতীতেও মুদ্রার তীব্র অস্থিরতার সময়ে এই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থার আশ্রয় নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে ডলারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো এই তেল সংস্থাগুলি।
ফলে তাদের খোলা বাজার থেকে সরিয়ে নিলে তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে ডলারের বাড়তি চাহিদার চাপ কমবে এবং টাকার অস্থিরতা কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে; যদিও এর প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ে টান পড়বে। ডলারের দর আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আমদানিকারীদের অতিরিক্ত হেজিং বা ঝুঁকি মোকাবিলার প্রবণতাও টাকার ওপর তীব্র চাপ তৈরি করছিল। সেই ফাটকাবাজি ঠেকাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নির্দেশ দিয়েছে, চলতি হিসাবের লেনদেনে ডলার কেনার উদ্দেশ্যে করা কুড়ি লক্ষ ডলারের বেশি মূল্যের ডেরিভেটিভ চুক্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলারদের কুড়ি শতাংশ ঝুঁকি সংরক্ষণ তহবিল বা ক্যাশ রিজার্ভ রাখতে হবে।
এর ফলে অতিরিক্ত ডলার মজুত বা হেজিং করার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, কোনো প্রকৃত বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রমাণ ছাড়া ফরেক্স ডেরিভেটিভ নেওয়ার যে সর্বোচ্চ সীমা আগে দশ কোটি ডলার ছিল, তা কমিয়ে এক লাফে পঞ্চাশ লক্ষ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষ নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে চৌদ্দ হাজার কোটি ডলারের বেশি পুঁজি দেশে আসা এবং সুদের হার বৃদ্ধি সত্ত্বেও টাকার অবমূল্যায়ন পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই নতুন দাওয়াইয়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশি ফরোয়ার্ড বাজারে টাকার দর শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বাড়লেও, তেলের চড়া আন্তর্জাতিক দর বজায় থাকলে আগামী দিনে মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই ভারতের প্রধান আর্থিক চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।














