আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে পদকের সংখ্যায় পাল্লা ভারী হলেও ভারতের পদকতালিকায় সোনা জয়ের খরা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। রবিবার পর্যন্ত দেশের ঝুলিতে মোট ৩৭টি পদক জমা পড়েছে, কিন্তু তার মধ্যে সোনালী পদক মাত্র ৪টি; বাকি ৩৩টিই রুপো (১৬টি) ও ব্রোঞ্জ (১৭টি)। ফলে সার্বিক পদক তালিকায় ১২ নম্বরে নেমে যেতে হয়েছে ভারতকে। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে যেখানে রেকর্ড ২৮টি সোনার মধ্যে ১৩টিই এসেছিল অ্যাথলেটিক্স ও শুটিং রেঞ্জ থেকে, সেখানে জাপানের মাটিতে এই দুই স্তম্ভ এখনও পর্যন্ত ভারতকে যৌথভাবে এনে দিয়েছে মাত্র একটি সোনা। অ্যাথলেটিক্সে ১৩টি পদক (৬টি রুপো, ৭টি ব্রোঞ্জ) এবং শুটিংয়ে ১১টি পদক মিললেও পোডিয়ামের শীর্ষ ধাপে ওঠার আকাল তীব্র হয়েছে। ভারতের চারটি সোনার মধ্যে তিনটিই এসেছে পুরোনো খেতাব ধরে রেখে—মহিলাদের ক্রিকেট এবং পুরুষ ও মহিলাদের কবাডি।
শুটিং থেকে একমাত্র সোনাটি এসেছে সুরুচি সিং ও কমলজিতের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল মিক্সড টিম ইভেন্টে। অ্যাথলেটিক্সে রবিবার মহিলাদের লং জাম্পে অ্যান্সি সোজান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ৬.৫৩ মিটার লাফিয়ে এগিয়ে থাকলেও শেষ প্রচেষ্টায় চীনের হুয়াং ইংইং ৬.৫৫ মিটার পার করে ভারতের হাতের মুঠো থেকে সোনা ছিনিয়ে নেন। হাই জাম্পে সর্বেশ কুশারে রুপো পান এবং হাংঝৌয়ের সোনাজয়ী তাজিন্দরপাল সিং তুরকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় রুপোতেই। নীরজ চোপড়ার অনুপস্থিতি এবং অন্নু রানির বাদ পড়ার ধাক্কাও স্পষ্ট। শুটিংয়েও হাংঝৌয়ের দাপট উধাও; সোমবার মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তলে মানু ভাকের, এশা সিং ও রাহি সার্নোবাতের দল প্রিসিশন রাউন্ডে চীনের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে থেকেও র্যা পিড ফায়ার রাউন্ডে পঞ্চম স্থানে নেমে গিয়ে পদক হাতছাড়া করে।
ব্যাডমিন্টন কোর্টে ভারতের অভিযান ইতিমধ্যেই কোনো ব্যক্তিগত পদক ছাড়াই শেষ হয়েছে; গত বারের সোনাজয়ী সাত্বিকসাইরাজ রানকিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি জুটি ছিটকে গিয়েছেন প্রথম রাউন্ডেই, দলগত বিভাগে এসেছে কেবল একটি ব্রোঞ্জ। এমনকি অশ্বারোহণেও গত বারের দলগত ড্রেসাজ সোনা হাতছাড়া হয়ে এ বার চতুর্থ স্থানে শেষ করতে হয়েছে ভারতীয় দলকে। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে ১৯৮২ সালের নয়াদিল্লি আসরে ১৩টি, ২০১০ গুয়াংঝৌতে ১৪টি, ২০১৮ জাকার্তায় ১৬টি এবং ২০২৩ হাংঝৌতে ২৮টি সোনার রেকর্ড গড়লেও এ বার জাপানে পোডিয়ামে পৌঁছেও সোনা না পাওয়ার ‘ফাইনাল জুজু’ ভারতের পদক অভিযানকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।














