ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কড়াকড়ি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার মহারণের ঠিক আগের দিন কমিশন যে তথ্য দিল, তা কার্যত চোখ কপালে তোলার মতো। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত এ রাজ্য থেকে নগদ টাকা, মদ এবং মাদক মিলিয়ে মোট ৪৭২ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে কমিশন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার খবর নিশ্চিত করেছে। কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই এই কড়া নজরদারি। প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে কমিশন জানিয়েছে, বাংলা থেকে এখনও পর্যন্ত নগদে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলছে নেশার সামগ্রী উদ্ধারের পরিসংখ্যানে।
রাজ্য জুড়ে প্রায় ৩৯ লক্ষ ৩১ হাজার লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করেছে কমিশন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। শুধু মদ নয়, মাদকের কারবার রুখতেও বড় সাফল্য পেয়েছে কমিশন। এখনও পর্যন্ত রাজ্য থেকে ১০৮ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ৫৫ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য রাখা ১৭৮ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকার ‘উপঢৌকন’ উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা। একই দিনে ভোট রয়েছে তামিলনাড়ুতেও।
বাংলার পাশাপাশি দক্ষিণের এই রাজ্যেও কমিশনের অভিযানে ধরা পড়েছে কুবেরের ধন। দুই রাজ্য মিলিয়ে মোট ১০৭২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে কমিশন। তবে নগদের বিচারে বাংলাকে টেক্কা দিয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে নগদেই উদ্ধার হয়েছে ১০০ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। ওই রাজ্য থেকে ১৫৯ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার মূল্যবান ধাতু এবং ২৫৯ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার উপহার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা বা ‘ইলেকশন সিজ়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শুরু হয়। কমিশনের কড়া মনোভাবে ভোটের আগে কার্যত কোণঠাসা অসাধু কারবারিরা।














