Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল ওবিসি সংশোধনী বিল ও সমাজবিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিল

বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল ওবিসি সংশোধনী বিল ও সমাজবিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিল

বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ করল বিজেপি সরকার। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফ্টি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ’ বিল পেশ হলো সোমবার। বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশের পরে বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিল কেন দরকার, তার উদাহরণ গ্যালারিতে বসে আছেন। গ্যালারিতে বসে আছেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী, তাঁর পরিবার। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সামসেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি। সবাই হাততালি দিয়ে স্যালুট করুন এই পরিবারকে’। এর পরেই অধিবেশন কক্ষে থাকা বিজেপি বিধায়করা উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান ওই পরিবারকে। গুন্ডা দমন বিল ধ্বনি ভোটে পাশ হল রাজ্য বিধানসভায়। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৭৬টি, বিপক্ষে ভোট দেন ৪১ জন। ২০ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। সম্পত্তি নষ্ট করলে গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এই আইনে।

 

 

কড়া ভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘এই আইনে একবছর কারাবাস করতে হবে। তবে কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হবে না’। উত্তরাখন্ড, গুজরাট এবং উত্তর প্রদেশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গও সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চরম কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হল বহুল চর্চিত ‘অ্যান্টি-গ্যাংস্টার বিল’ বা গুন্ডাদমন বিল। ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশও হয়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অপরাধ দমনে যে কঠোর আইনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, এই বিল তারই বাস্তব রূপায়ন। প্রস্তাবিত এই খসড়া আইনে সমাজের জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে ‘গুণ্ডা’ বা ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

 

 

এদিন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। দীর্ঘ বিতর্ক ও ভোটাভুটির পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সোমবার ওবিসি সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ কাঠামো এবং পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই সংশোধনের ফলে সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, আইনসম্মত এবং কার্যকর হবে। পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও উপজাতি ছাড়া) চাকরি ও শূন্যপদে সংরক্ষণ সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের জন্য শিডিউল ১-এ ‘ক্যাটিগরি এ’-র আওতায় ৬৫টি এবং ‘ক্যাটিগরি বি’-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা ছিল তৃণমূল আমলের আইনে। সেই শিডিউল ১ বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে নতুন বিলে।

 

 

কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে, রাজ্য সরকার ওবিসি নাগরিকদের অনগ্রসরতার নিরিখে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করতে পারবে সরকার। সেই মতো এক একটি শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ হবে। বিলে বলা হয়েছে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্য ওবিসি-র জন্য সংরক্ষিত পদের শতাংশ ঠিক করবে। প্রয়োজনে সংরক্ষণের শতাংশ বাড়ানো হতে পারে, তবে তা সার্বিকভাবে ৫০%-এর বেশি হবে না। অন্যদিকে, ১৯৯৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংশোধনী বিলে কমিশনের সদস্য-সচিব পদে যোগ্যতার পরিবর্তন করা হচ্ছে। বর্তমান আইনে সদস্য-সচিব হিসেবে ‘সেক্রেটারি’ পদমর্যাদার আধিকারিকের কথা বলা রয়েছে।

 

 

সংশোধনীতে তা বদলে ‘জয়েন্ট সেক্রেটারি বা তার ঊর্ধ্বতন’ পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিশনের প্রত্যেক সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ৩ বছরের জন্য পদে থাকবেন। তবে সদস্য-সচিবের ক্ষেত্রে তাঁর মেয়াদ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করতে পারবে। কোনও শ্রেণিকে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন কমিশন পরীক্ষা করবে। কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেবে। অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা না হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিকদের অভিযোগ কমিশন শুনবে। সংশোধনী অনুযায়ী, কমিশনের দেওয়া পরামর্শ বা সুপারিশ সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে বাধ্যতামূলক বলে গণ্য হবে।

READ MORE.....