Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

‘সবক শেখানোর সময় এসেছে’ হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

‘সবক শেখানোর সময় এসেছে’ হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে কোনো লাগামছাড়া কথা বরদাস্ত করা হবে না, হবে না, হবে না। এটা জঙ্গলরাজ নয়। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, দিন বদলেছে। আপনাকে সবক শেখানোর সময় এসেছে।’ বিধানসভার অধিবেশনে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভার ফ্লোর থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুটি পৃথক থানায় এফআইআর দায়ের করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। বিএনএস ১৫২, ১৯২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪, ২৯৯, ৩৫১(২), ৩৫২, ৩৫৩ ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় বিএনএস ১৭৬/২২৬ এ মামলা রুজু রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন।

 

পাশাপাশি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন বলেন, ‘এনাফ ইজ় এনাফ’। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে সেই সঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনের বক্তব্য পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার।

 

এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন। আমি আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।’ হুমায়ুন কবীর হঠাৎ করে কেন এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন তার পেছনে নির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কেন এসব করছেন আমি জানি। আপনার প্রথম এজেন্ডা ছিল ভরতপুর-রেজিনগর-নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত ভেঙে আপনার পার্টিতে নিয়ে যাওয়া। আপনি সেটা করতে পারছেন না। দ্বিতীয়, ২টো সিটে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগরে রিজাইন করেছেন। ২-৩ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে, আপনি আপনার ছেলেকে জিতাতে চাইছেন। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। আর সেটাকে টানতেই এই খেলাটা খেলছেন। কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না। সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে হাফ প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন। এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।’

READ MORE.....