চাপানউতোর ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এসআইআর প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে বড় পদক্ষেপ নিল বঙ্গ বিজেপি। রাজ্য নেতৃত্ব প্রায় ৫০ হাজার বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ-২) চূড়ান্ত করেছে। এই তালিকা দিন কয়েকের মধ্যে জমা পড়বে নির্বাচন কমিশনে। তবে এখানেই শেষ নয় আরও ১০ থেকে ১১ হাজার বিএলএ-২ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।
সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৬১ হাজার বুথে নিজেদের প্রতিনিধিকে পাঠাতে চলেছে বিজেপি। রাজ্যে বুথ পুনর্বিন্যাসের ফলে মোট বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৪৯৭। আগে এই সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৬৮১। বিজেপির লক্ষ্য, যতটা সম্ভব বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করে শক্তিশালী করা সংগঠনকে। তবু প্রশ্ন থেকে গেছে,সব বুথে কি সত্যিই প্রতিনিধি বসানো সম্ভব হবে? দলের অন্দরেই এ নিয়েও শুরু হয়েছে মতবিরোধ।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করা হবে না, এমনই জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁদের বক্তব্য, তাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। সেই কারণে কয়েকটি বুথে প্রতিনিধি নাও পাঠানো হতে পারে।অন্যদিকে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতায় ভুগেছে বলেই জানান বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ কর্মী কম থাকায় বিএলএ-২ বাছাইয়ে সময় লেগেছে। তবে শেষমেশ সবকিছু ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, বিএলএ-২-রা বুথ লেভেল অফিসারদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করবেন। তাঁরা এসআইআরের সময় তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা যাচাইয়ে সহায়তা করবেন।
তৃণমূল পর্যায়ে পুরো প্রক্রিয়া নজরদারি করতে দল বিশেষ একটি অ্যাপ ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রত্যেক বিধানসভায় একজন বিএলএ-১ থাকবেন, যিনি এই সমস্ত কাজ তদারকি করবেন। অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভার জন্য থাকবে ২৯৪ জন বিএলএ-১। তাঁরা ক্ষেত্রভিত্তিক রিপোর্ট সংগ্রহ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন। এই প্রস্তুতি বিজেপির জন্য আগামী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে চলছে বিএলওদের ট্রেনিং ও বিক্ষোভ, অন্যদিকে বুথে বুথে সংগঠন গড়ার কাজ গতি পেয়েছে বিজেপির হাতে। রাজনৈতিক অঙ্কে রাজ্য এখন বেশ গরম।














