ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইএসএফ-এর বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এই পরিস্থিতিতে তিনি ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন।
নওশাদের বক্তব্য, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম এখনও নিষ্পত্তি না হওয়া অবস্থায় ভোট ঘোষণা হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁর দাবি, বিচারাধীনদের মধ্যে কেউ যদি প্রার্থী হন, তাহলে তাঁদের অবস্থান কী হবে তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা নেই নির্বাচন কমিশনের কাছে। সেই কারণেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে হবে।
নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “৬০ লক্ষ ভোটার কম নয়। তাঁদের নামের নিষ্পত্তি না হলে গণতন্ত্রের উৎসব অসম্পূর্ণ থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় স্তরের নেতা। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আওয়াজ তুলুন। প্রয়োজনে ভোট বয়কটের ডাক দিন।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, যদি নির্বাচন কমিশন তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভোট ঘোষণা করে, তাহলে ভোট বয়কটের পথেই হাঁটার আহ্বান জানানো হবে।
এই ঘোষণাকে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করার কথাও ভাবছেন তিনি। নওশাদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শিগগিরই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতে পারে। আঠাশে প্রকাশিত তালিকায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন ছিল। কমিশন সূত্রে খবর, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮ লক্ষের বেশি ভোটার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন, আর ৫ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে।
বাকি ভোটারদের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনাল বিচার করবে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ জন বিচারক এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। কমিশনের দাবি, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে এবং ভোটের আগেই বাকি বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।














