শীত এসেও খেজুর রসের জোগানে বাঁধা। আবহাওয়ার খামখেয়ালি তারপর হঠাৎ থমকে যাওয়া শীত। খেজুরের রসের জোগান তেমন নেই। নদিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এখন চাহিদা খেজুর রসের। নদীয়া জেলার খেজুর গাছ কেটে শিউলিরা সুস্বাদু খেজুর রস পাচ্ছেন না। শীত সেভাবে না পড়ায়। আগে অগ্রহায়ণ মাস হলেই রসের বৃদ্ধি ছিলো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল সেখানে এখন অনেকটাই ধাক্কা খাচ্ছে খেজুর রসে।
বর্ষা বিদায় নেবার পর থেকেই শুরু হয়ে যেতো শিউলিদের খেজুর গাছ ঝোড়ার কাজ। একটি গাছ থেকে সপ্তাহে দু’দিন খুব বেশি হলে তিন দিন শিউলিরা গাছ কেটে রস বের করে থাকতেন। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে অনেক জায়গায় আবার অনেক জায়গায় খেজুর গাছ লাগানো হচ্ছে। অনেকে যেমন নিজের গাছ পরিচর্চা করে গাছ দেখভাল করেন আবার অনেক শিউলিরা জমির মালিকের কাছ থেকে গাছ নিতে হচ্ছে বেশি টাকা দিয়ে।
গাছ কিনে রস বের করার কাজে নিজেদেরকে রস বার করার কাজ করেন। অগ্রহায়ণ, পৌষ মাঘ ও ফাল্গুন এই চার মাসের জন্য গাছ ভাড়া নেন শিউলিরা। গাছ ঝোড়া থেকে রস বের করে জ্বালানি দিয়ে পরিশ্রম করে এই শীতকালে বড় চাহিদা খেজুর গুড় তৈরি হয়। নতুন গুড় ভোজন প্রিয় মানুষ যেমন কেনেন তেমনি অনেক মিষ্টির দোকানে এই খেজুর গুড় নেওয়া হয়। লাভের মুখ দেখতে পান শিউলিরা। বর্তমানে অনেক শিউলি পেশা কমে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম আর এই খেজুর গুড়ের কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করছে না। অবশ্যই নলেন গুড়ের শিউলিরা অন্য পেশায় নিজেদের নিযুক্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে খেজুরের গুড় বিক্রি করে তেমন লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না।
অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় তৈরি করে ফেলছে। এই ভেজাল গুড়ের দাপটে আসল নলেন গুড়ের স্বাদ চাপা পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিউলিরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। শিউলি পেশায় রয়েছেন বংশী দত্ত বলেন, কুড়িটা গাছ কেটে রস হয় তিন থেকে পাঁচ হাঁড়ি। সেই রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি হয়। আবার খেজুর রস বিক্রী হয়, এখনো রস খাওয়ার চাহিদা আছে। তবে যত শীত পড়বে ততো খেজুর রস ভালো হবে। বর্তমানে শীত সেভাবে পড়িনি। আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে খেজুর রস থমকে গেছে। তবে এখনো সময় আছে শীত যত পড়বে ততো রস মিষ্টি হবে সেই আশায় সবাই।















