বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো নিয়ে রাজ্য ও সরকারি কর্মচারীদের সংঘাত এবার চরম আকার নিল। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে নবান্ন পাল্টা আবেদন করতেই রণকৌশল বদলে ফেলেছে কর্মী সংগঠনগুলি। আদালতের অন্দরে আইনি লড়াই এবং রাজপথে কর্মবিরতি এই ‘জোড়াফলা’ আক্রমণেই নবান্নকে কোণঠাসা করতে মরিয়া আন্দোলনকারীরা।
একদিকে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট ও আদালত অবমাননার মামলা, অন্যদিকে আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে শাসকের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে সংগঠনগুলি। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ মেটানোর রূপরেখা তৈরির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গড়ে দেয় আদালত।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার’। কিন্তু প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে শুক্রবার রাতে রাজ্য সরকার সময় চেয়ে আবেদন করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কর্মীরা।আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্য সরকার আসলে সময় নষ্ট করে পাওনা টাকা আটকে রাখতে চাইছে। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমরা জেনেছি ইমেল মারফত রাজ্য সরকার তাদের আবেদন সুপ্রিম কোর্টের কাছে জানিয়েছে।
যদিও আমরা রাজ্য সরকারের ডিএ না-দেওয়ার অভিসন্ধি বুঝতে পেরেই আগে থেকে আদালত অবমাননার মামলা করে রেখেছি।’ একই সুর শোনা গিয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর গলায়। তিনি বলেন, ‘১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা প্রতিবাদ করে রাজ্য সরকারকে তাঁদের শক্তি বুঝিয়ে দেবে।’ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের লড়াই এবার সরাসরি ধর্মঘটের পথে। মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ‘১৩ মার্চ আমরা বন্ধ মোবারক কর্মসূচির ডাক দিয়েছি। সেই কর্মসূচি দিয়ে এই সরকারকে আমরা বোঝাতে চাই আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া সহজ বিষয় নয়।’














