বিধানসভা নির্বাচনের আবহে নির্বাচন কমিশন বনাম তৃণমূল সংঘাত চরমে পৌঁছাল। ডেরেক ও’ব্রায়েনের পর এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র। বুধবার দুপুরে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিজেপির বুটলিকার’ বা পদলেহনকারী বলে তোপ দাগেন তিনি। মহুয়ার সাফ কথা, মে মাসের চার তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের পর জ্ঞানেশকে ফের বিজেপির চাটুকারিতার কাজেই ফিরতে হবে।
বুধবার সকালে ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছেন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ময়দানে নামেন মহুয়া। দুই মিনিট তেরো সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় মহুয়া স্মরণ করিয়ে দেন, কমিশন চলে সাধারণ মানুষের করের টাকায়। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষা করা কমিশনের কাজ নয়। মহুয়ার কথায়, ‘আপনি নির্বাচন কমিশন নামক একটি সাংবিধানিক সংস্থার মাথায় বসে রয়েছেন। সেই সংস্থা করদাতাদের অর্থে চলে।
তাই রাস্তার গুণ্ডাদের ভাষায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল-কে হুমকি দেওয়া আপনার কাজ নয়।’ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কমিশনের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহুয়া। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপির কথাতেই কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার এবং আইপিএস অফিসারদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে সোচ্চার হন এই তৃণমূল নেত্রী। মহুয়া স্পষ্ট জানান, ‘আপনি কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছেন। সেটাও আপনার কাজ নয়। এসবই আপনি করছেন আপনার প্রভু বিজেপির কথায়। আমরা দিল্লির প্রভাব মুক্ত নির্বাচন চাই।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক তালিকায় বাংলায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ভিডিওর শেষে আত্মবিশ্বাসী মহুয়া ৪ মে তৃণমূলের বিজয়োৎসবে জ্ঞানেশ কুমারকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বা অন্য কোনো ভাবে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা সফল হবে না। বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশেই আছে। মহুয়ার ভাষায়, ‘আপনাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মে মাসের চার তারিখ তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে। চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা। আর আপনি যে কাজে ছিলেন সেই বিজেপির পদলেহনের কাজে ফিরে যাবেন।’ নির্বাচনের মুখে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মহুয়ার এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিল।














