যারা এসে ভোট ভাগ করতে চাইছে, সব বিজেপির এজেন্ট।’ এভাবেই শনিবার মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমন করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার আল-আমান শিক্ষা মিশন গ্রাউন্ড থেকে ফরাক্কার জিগরি মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপর গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ক্ষুরধার বক্তব্য রাখেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে যে ভয়ঙ্কর খেলা চলছে, আপনারা দেখেছেন, এখানে বিজেপির ৩টে এজেন্সি কাজ করছে। এক, নির্বাচন কমিশন, গরিব মানুষের সংখ্যালঘু ভাইদের নাম কাটা… দুই হচ্ছে, অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস… আর, তিন হচ্ছে, মিম, ডিম, জুপ, ঝুপ অনেককিছু রয়েছে’। অভিষেক এদিন বলেন, ‘তৃণমূল বিজেপি ভাঙতে জানে। বিজেপি কংগ্রেসকে ভাঙছে। বিজেপি অন্য রাজনৈতিক দলকে ভাঙছে।
আর, বিজেপিকে টুকরো টুকরো করে ভাঙছে তৃণমূল’। ফারাক্কার রোড শো থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘যদি ভোট কাটাকাটিতে কেউ জিতে যায়, বিজেপি জিতে যায়, তাহলে কী হবে? যদি কংগ্রেসের প্রার্থী কোনওমতে জিতে বিজেপিতে চলে যায় কী করবে?’ মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘যারা এসে ভোট ভাগ করতে চাইছে, সব বিজেপির এজেন্ট। এদেরকে ভোট দেওয়া মানে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দেওয়া… তৃণমূলের গত ৫ বছরে কোনও বিধানসভার বিধায়ক বিজেপি-তে যায়নি। বিজেপি ভেঙে আমরা তৃণমূলের নিয়ে এসেছি। বিজেপি অন্য রাজনৈতিক দলকে ভাঙছে। তৃণমূল টুকরো টুকরো করে বিজেপিকে ভাঙছে। বিজেপি যে ভাষা বোঝে, সেই ভাষায় জবাব দিতে জানে’। অভিষেক সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ না-হওয়া নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল এটা না। মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়ে গেছে ২০২৩-এর সেপ্টেম্বর মাসে। এটা ডিলিমিটেশন বিল ছিল। তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে, বিজেপি চাইলেও করতে পারবে না, সংবিধান আমরা পাল্টাতে দেব না।
যারা গায়ের জোরে দেশভাগ করতে চেয়েছিল ডিলিমিটেশনের নাম করে, কালকে লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়েছে’। পাশাপাশি ফরাক্কা ও সামশেরগঞ্জের গঙ্গা ভাঙনে কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ না নেওয়ায়, তিনি নিজে আন্দোলনে নামবেন বলে জানিয়েছেন। চতুর্থবার তৃণমূল সরকার গঠনের পর ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি তৈরির কথা বললেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার গঙ্গা ভাঙন সমস্যা নিয়ে চিঠি দিলেও কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। অভিষেক বলেন, ‘দুই বিধানসভার দায়িত্ব আমি নিলাম। কেন্দ্র সরকারের ফরাক্কা ব্যারেজের অব্যবহৃত জমি ফেরত নিয়ে গঙ্গা ভাঙনে ফরাক্কা ও সামশেরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি তৈরি করে দেব’। পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিজেপিকে বিঁধেছেন। বেছে-বেছে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, হিন্দু-মুসলিমে বিভাজন করা হচ্ছে বলে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তিনি।













