লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়া এবং সীমা পুনর্বিন্যাস ইস্যু ঘিরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। শনিবার সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এটা ওদের জন্য কালো দিন। প্রথমবার ওরা একটা ধাক্কা খেল— আর এই ধাক্কা ওদের প্রাপ্যই ছিল।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার জনতার আস্থা হারিয়েছে, আর সেই কারণেই এই আইন প্রণয়নে ব্যর্থতা সামনে এসেছে। প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, নারী সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়া কেবল একটি সংসদীয় ব্যর্থতা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বড় রাজনৈতিক কৌশল। তাঁর বক্তব্য, সীমা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে বিলকে জুড়ে দিয়ে বিজেপি আসলে দেশের উত্তর ও বৃহত্তর রাজ্যগুলিকে বাড়তি রাজনৈতিক ওজন দিতে চাইছিল।
এতে দেশের ফেডারেল ভারসাম্য নষ্ট হতে পারত এবং দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতো। “যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হত, তা হলে ভারতে বড় সংকট তৈরি হতে পারত। আমরা চাই বর্তমান অবস্থাই বজায় থাকুক, আসন বণ্টন হোক সুষম অনুপাতে”— স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, সরকারের এই পরাজয় উদ্যাপনের কোনও কারণ নেই। বরং বিরোধীরা গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁর কথায়, “এখানে আনন্দ করার কিছু নেই। আমরা শুধু গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। ওদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, আমি সংসদে পরিষ্কার করে তা ব্যাখ্যা করেছি। সীমা পুনর্বিন্যাসের নামে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছিল, আমরা সেটাই পরাস্ত করেছি।” নারী সংরক্ষণ নিয়ে বিরোধী জোটের অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি।
জানান, ২০২৩ সালের আইনের বাস্তবায়নেই তারা ঐক্যমত্যে। “তিন বছর কিছুই না করে এখন হঠাৎ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যদি সত্যিই ইচ্ছা থাকে, তা হলে তা কার্যকর করুন। নারী সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরা সবসময় এর পক্ষে ছিলাম”— বলেন তিনি। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যেভাবে বিলটি সামনে আনা হয়েছে এবং তার সঙ্গে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা গণতন্ত্র ও দেশের ঐক্যের পক্ষে বিপজ্জনক।
বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর অভিযোগ, সরকার শুরু থেকেই জানত এই বিল পাস করানো সম্ভব নয়, তবুও রাজনৈতিক কৃতিত্ব কুড়োতেই এটি আনা হয়েছিল।
“ওরা জানত বিলটি পাস হবে না। কিন্তু সীমা পুনর্বিন্যাস, জনগণনা— এই সব জুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছে”— বলেন তিনি। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই বিজেপি এই কৌশল নিয়েছে এবং নারী ইস্যুকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। “ওরা ভেবেছিল, বিল পাস হলে জয় তাদের, আর পাস না হলে অন্য দলগুলিকে নারী-বিরোধী বলে চিহ্নিত করে নিজেরাই ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠবে”— মন্তব্য তাঁর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে আসন্ন নির্বাচনের আগে নারী সংরক্ষণ ও সীমা পুনর্বিন্যাস— এই দুই ইস্যুকেই কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রস্তুতি। একদিকে বিজেপি নারী সংরক্ষণকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল ও ক্ষমতা ধরে রাখার পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করছে। ফলে সংসদের ভিতরের এই পরাজয় এখন সরাসরি জনমত গঠনের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।













