ইনিংসের শেষ বল। সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া পেতে বাবর আজমের প্রয়োজন ২ রান। জাহানদাদ খানের ফুল লেংথ বল লং-অনে খেলেই ছুট দিলেন তিনি। দ্বিতীয় রান হবে কিনা, ছিল অনিশ্চয়তা। ডাইভ দিয়ে রান পূর্ণ করে কিছুক্ষণ শুয়েই ছিলেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার । পরে উঠে লাফিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুঁড়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন। লম্বা সময় পর শতকের স্বাদ পাওয়া বলে কথা!
পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ইনিংস শুরু করতে নেমে শেষ পর্যন্ত খেলে ঠিক ১০০ রান করেন বাবর। পেশাওয়ার জালমি অধিনায়কের ৫২ বলের অপরাজিত ইনিংসটি সাজানো ছিল চারটি ছক্কা ও ছয়টি চারে।
স্বীকৃত টি-২০’তে ৬৭ ইনিংস পর সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাবর। এই সংস্করণে তার আগের শতকটি এসেছিল দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের পিএসএলে। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৬৩ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেছিলেন তিনি।
পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এটি বাবরের তৃতীয় সেঞ্চুরি। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে দ্বাদশবার এই স্বাদ পেলেন তিনি। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি রয়েছে ক্রিস গেইলের, ২২টি।
টি-টোয়েন্টিতে বাবরের ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় প্রায়ই। বিশেষ করে তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে হয় সবচেয়ে বেশি চর্চা। সেখানে উন্নতির চেষ্টা করছেন তিনি। এবার সেঞ্চুরি স্পর্শ করলেন ৫২ বলে, যেখানে ডট বল স্রেফ একটি । স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটি বাবরের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২১ সালে ৪৯ বলে শতক ছুঁয়েছিলেন তিনি।
পিএসএলের গত আসরটা ভালো কাটেনি বাবরের। ১০ ইনিংসে তিন ফিফটিতে রান করতে পেরেছিলেন কেবল ২৮৮। এবার সাত ইনিংসেই তা ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। ১৪৩.৭২ স্ট্রাইক রেট ও ১০০.২৫ গড়ে করে ফেলেছেন ৪০১ রান । নবাগত রাওয়ালপিন্ডিজের বিপক্ষে ৩৯ রানের ইনিংস দিয়ে এবারের পিএসএল শুরু করেন বাবর। আসরে নিজের তৃতীয় ম্যাচে এসে পান পঞ্চাশের দেখা, করাচি কিংসের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৮৭। আগের ম্যাচে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে করেছিলেন অপরাজিত ৭১। সেই দলের বিপক্ষেই এবার পেয়ে গেলেন সেঞ্চুরি।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সিঙ্গল নিয়ে রানের খাতা খোলেন বাবর। পরের ওভারে পান প্রথম বাউন্ডারির দেখা। চতুর্থ ওভারে লেগ স্পিনার আবরার আহমেদকে টানা দুটি চার মারেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
এরপর লম্বা সময় আর কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি বাবর। প্রান্ত বদল করে খেলতে থাকেন তিনি। দ্বাদশ ওভারে গিয়ে আবরারের বলেই ফের বাউন্ডারির দেখা পান তিনি। চতুর্দশ ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন ৩১ বলে।
আরেক প্রান্তে দ্রুত রান বাড়ান কুসাল মেন্ডিস। দারুণ ছন্দে থাকা লঙ্কান কিপার-ব্যাটসম্যান ২৪ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। মনে হচ্ছিল, এবারের পিএসএলে আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু ৮৩ রানে বিদায় ঘণ্টা বাজে তার। ৪৪ বলের ইনিংসে তিনটি ছক্কার সঙ্গে মারেন ১০টি চার। বাবরের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ১৩৫ রান।
পঞ্চদশ ওভারে মেন্ডিস যখন আউট হন, বাবরের রান তখন ৫৮। আবরারকে ছক্কায় ওড়ান তিনি। পরে উসমান তারিকের ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
১৯তম ওভারে আলজারি জোসেফকে আরেকটি ছক্কায় নব্বইয়ের ঘরে পা রাখেন বাবর। এরপর শেষ বলের ওই ডাবলে সেঞ্চুরির বহুল কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পা রাখেন তিনি।বাবর শতক ও মেন্ডিসের চমৎকার ইনিংসে ৩ উইকেট ২৫৫ রান করে পেশাওয়ার। পিএসএলে যা তাদের সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে এই রান তৃতীয় সর্বোচ্চ। গত আসরে ইসলামাবাদের বিপক্ষে ২৬৩ করেছিল কোয়েটা। আর ২০২৩ সালে কোয়েটার বিপক্ষে ২৬২ করেছিল মুলতান সুলতান্স ।














