তদন্তকারীদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রায় আট ঘণ্টা পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোলেন নুসরত জাহান। বুধবার সল্টলেকের ইডি দফতর থেকে যখন তিনি বেরোচ্ছেন, তখন তাঁর হাত শক্ত করে ধরে ছিলেন যশ দাশগুপ্ত। ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় দীর্ঘ সময় পর কেন এই তলব, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মেজাজ হারালেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নুসরত বলেন, ‘আপনারা খবর নিয়ে নিন।’
এদিন সকালেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছেছিলেন বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ। পরনে সাদা সালোয়ার-কামিজ আর চোখে রোদচশমা। গাড়ি থেকে নেমে যশের হাত ধরেই সোজা ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সেই সময় সংবাদমাধ্যম ঘিরে ধরলেও মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন অভিনেত্রী।
রাজারহাট এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে এদিন তাঁকে তলব করা হয়েছিল। ইডি সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে তদন্তে বেশ কিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সেই সূত্রেই ফের ডাকা হয়েছিল অভিনেত্রীকে। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নুসরত প্রথমে দিল্লিতে হাজিরা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর দিল্লিতে থাকার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার কলকাতাতেই হাজিরা দেন তিনি। এর আগেও ২০২৩ সালে এই একই মামলায় তাঁকে প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ প্রায় ৪০০ জন প্রবীণ নাগরিকের থেকে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে।
১০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের। বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা এই নিয়ে সরাসরি ইডির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ওই সংস্থায় নুসরত ডিরেক্টর পদে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে থাকার তথ্যও তিনি মানতে চাননি। বুধবারের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে বেরিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাসের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে নুসরতের বয়ান কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের। ফাইল ফটো।














