ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পেলেট গানের গুলিতে ১৯ বছর বয়সি ছাত্র সাহিল লোচাবের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় এফআইআর দায়ের করার দাবিতে শুক্রবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় ধর্নায় বসলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে এই প্রতিবাদে যোগ দেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং আক্রান্ত ছাত্রের পরিবার। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে সিজেপি-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় নজফগড়ের বাসিন্দা সাহিল লোচাবের ডান চোখে এবং পেটে পেলেট গানের ছররা লাগে।
এইমস ট্রমা সেন্টারে অস্ত্রোপচার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর চোখে এখনও স্প্লিন্টার রয়ে গিয়েছে এবং তাঁর চোখের দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, গত ১৪ আগস্ট সাহিল আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো তদন্তকারী আধিকারিকের নাম বা অভিযোগ গ্রহণের প্রাপ্তিস্বীকার পত্র দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট ইমেল ও ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। শুক্রবার রাহুল গান্ধী প্রথমে সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে মন্দির মার্গ থানায় যান। সেখানে অভিযোগ গ্রহণ না করায় তিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে ডিসিপি (সেন্ট্রাল)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তবে আলোচনা নিষ্ফল হওয়ায় এবং এফআইআর দায়ের করতে পুলিশ অস্বীকার করায় তিনি ডিসিপি অফিসের বাইরে ধর্নায় বসে পড়েন। রাহুল স্পষ্ট জানান, “সাহিল বিচারের জন্য এফআইআর করতে চাইছে, কিন্তু তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এফআইআর নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।” এদিকে ছাত্রদের ওপর পেলেট গান, রবার বুলেট ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হলেও, ছাত্রদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।














