স্বাস্থ্য পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে ফের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ফেরত পাঠানো ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ তাঁকে হাসপাতাল থেকে সরাসরি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিস্তারিত শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁকে সম্পূর্ণ ‘মেডিক্যালি ফিট’ বা সুস্থ ঘোষণা করায় এবং তৎক্ষণাৎ কোনো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকায় তাঁকে জেলে ফেরত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং জেনারেল ফিজিশিয়ানদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসক দল ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষার পুরো সময় জুড়ে তাঁর বোন উজমা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টে গুরুতর বা আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন ভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলো? এর আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে ইসলামাবাদের বেসরকারি ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল’-এ ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বাস্তবে তাঁকে নেওয়া হয় সরকারি ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ (পিমস) হাসপাতালে।
হাসপাতাল বদল প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার যুক্তি দিয়েছেন যে, পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ও পূর্বনির্ধারিত রুটে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই শেষ মুহূর্তে তাঁকে পিমস-এ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতভর ইসলামাবাদের রাস্তায় তাঁর সমর্থকদের পুষ্পবৃষ্টি ও জমায়েতের দৃশ্য দেখা যায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই প্রথম তাঁকে জেল চত্বরের বাইরে এনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী ৭৩ বছর বয়সি এই নেতার হঠাৎ জেল প্রত্যাবর্তনে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।














