Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

সিগনাল ইদুনা পার্কের অজানা রূপকথা

সিগনাল ইদুনা পার্কের অজানা রূপকথা

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের জগতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ঘরের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্কের মতো আবেগ, গর্জন ও রোমাঞ্চ খুব কম স্টেডিয়ামেই চোখে পড়ে। ভক্তদের কাছে এটি কেবল ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের স্থান নয়, বরং ক্লাবের হৃৎস্পন্দন; যেখানে আট বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৮৮ বছর বয়সি প্রবীণ সমর্থকরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই আবেগ নিয়ে গ্যালারিতে ফিরে আসেন। সরকারিভাবে সিগনাল ইদুনা পার্ক হলেও স্থানীয় সমর্থকদের কাছে এটি এখনও শ্রদ্ধার ‘ওয়েস্টফ্যালেনস্টেডিয়ন’।

 

জার্মানির বৃহত্তম এই ফুটবল স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর তথ্য। ম্যাচের দিন এই স্টেডিয়ামের ভেতরে সমর্থকদের উন্মাদনা কতটা চরমে পৌঁছায়, তার বড় প্রমাণ হলো পানীয়ের বিপুল চাহিদা। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচ ডে-তে স্টেডিয়াম চত্বরে প্রায় এক লক্ষ লিটার বিয়ার পান করেন দর্শকরা। খেলা শুরুর বহু ঘণ্টা আগেই গোটা শহর কার্যত কালো-হলুদ রঙের ঢেউয়ে রূপ নেয় এক জীবন্ত জনসমুদ্রে। এই মাঠের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিখ্যাত দক্ষিণ গ্যালারি বা ‘ইয়েলো ওয়াল’ (সুডট্রিবুন)।

 

ইউরোপীয় ফুটবলে এটিই সবচেয়ে বড় স্ট্যান্ডিং টেরেস বা দাঁড়িয়ে খেলা দেখার গ্যালারি, যেখানে প্রতি বুন্দেসলিগা ম্যাচে প্রায় ২৫,০০০ (বেসরকারি মতে প্রায় ৩০,০০০) দর্শক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে অবিরাম চিৎকার করে প্রতিপক্ষের ওপর চরম মানসিক চাপ তৈরি করেন। স্থানসংকুলান এতটাই নিবিড় হয় যে একটি খবরের কাগজের দুটি পাতার সমান জায়গায় গড়ে ৩-৪ জন মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকেন। এখানে বাবার হাত ধরে আসা সন্তান কিংবা নাতিকে নিয়ে আসা ঠাকুরদা—তিন প্রজন্ম একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ‘একতে লিবে’ (খাঁটি ভালোবাসা) স্লোগানে গলা মেলান।

 

তবে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের এই সুবিশাল জনসমুদ্রকে সামলাতে স্টেডিয়ামের ভেতরেই রয়েছে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা। বিশ্বের খুব কম স্টেডিয়ামের এমন নজির রয়েছে, যেখানে শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও গোলমেলে সমর্থকদের তৎক্ষণাৎ আটক করতে রয়েছে নিজস্ব ‘স্টেডিয়াম জেল’ বা অস্থায়ী হাজতখানা। এটি কোনো সাজানো প্রদর্শনী নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আধিকারিকদের নজরদারিতে একটি সম্পূর্ণ কার্যকর সেল হিসেবে এটি কাজ করে।

 

স্টেডিয়ামের ভেতরের খুটিনাটি নকশাতেও রয়েছে একাধিক অদ্ভুত ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে ঘরের দল ডর্টমুন্ডের ফুটবলাররা ১২টি সিঁড়ির ধাপ নামেন, অথচ প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি করা রয়েছে ১৩টি ধাপ—যা কুসংস্কার বা ভাগ্যের এক অনন্য লড়াই হিসেবে পরিচিত। ডর্টমুন্ডের রিজার্ভ বেঞ্চে ক্লাবের অমর নীতিবাক্য ‘একতে লিবে’ খোদাই করা থাকে, যা মাঠে নামার আগে ও পরে খেলোয়াড়দের চোখে পড়ে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দলের রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা থাকে একটি বিশেষ আসন—যা বরাদ্দ থাকে সেই সমস্ত প্রাক্তন ডর্টমুন্ড ফুটবলারদের জন্য, যাঁরা অন্য ক্লাবের জার্সি গায়ে বিপক্ষ হয়ে এই মাঠে খেলতে ফিরে আসেন। ইতিহাস ও আবেগের এই অনন্য মেলবন্ধনই সিগনাল ইদুনা পার্ককে আধুনিক ফুটবলের এক অন্যতম বিস্ময় হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।

READ MORE.....