Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আইসিডিএস কর্মীদের মাসিক বেতন ৫০০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে অত্যাধুনিক পরিষেবায় ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে আয়োজিত ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রে এ বার থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন মন্তব্য করেন, শিশু শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী এই কর্মীরাই মূলত দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন। পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে পানিহাটির কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই আইসিডিএস কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, গত অগাস্ট মাসেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫০০০ টাকা বর্ধিত বেতন কার্যকর করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ‘দিদি’-দের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবীমা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার দরুন দেশের প্রায় ৩৮টি নামী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন তাঁরা। এবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির খাদ্য বরাদ্দ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন তিনি। শুধু খাদ্য বরাদ্দই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ কর্মসূচি থেকে প্রসূতি মা ও শিশুদের খাবারের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা জানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিশুদের জন্য মাথাপিছু খাদ্য বরাদ্দ ৮ টাকা থেকে বেড়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে প্রসূতি মায়েদের মাথাপিছু বরাদ্দ ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘সেবা সংকল্প’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে ১৯ হাজার রেন্টাল অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার রয়েছে। আগামীতে সেগুলো সরকারের নিজস্ব ঠিকানায় হবে। প্রতিটি সেন্টারের জন্য ১২ লক্ষ টাকা করে খরচ করবে সরকার। বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাসের ওভেন, পরিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে শৌচালয়, সমস্ত ব্যবস্থাই করা হবে। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকে বেরিয়ে উল্লাস ও আনন্দের ভেলায় ভাসলেন পানিহাটি পুরসভার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীন এবং শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পেরে নিজেদের অভিভূত বলে প্রকাশ করেন তাঁরা। সভা শেষে বাইরে এসে আবেগাপ্লুত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা জানান, ‘কাজের জগতে এর আগে কখনও তাঁরা এমন সম্মান ও স্বীকৃতি পাইনি।’ ডেকে এনে এভাবে সম্মান জানানো তাঁদের কাছে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। একলপ্তে ৫,০০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আনন্দের, তবে টাকা বাড়ার চেয়েও তাঁদের কাছে আসল বড় কথা হল কাজের সঠিক মূল্যায়ন ও আত্মসম্মান ফিরে পাওয়া। দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের কাজের কথা ও আর্থিক সুরক্ষার কথা তেমনভাবে কেউ ভাবেনি বলেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন অনেকে।

READ MORE.....