২২-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আজারবাইজানের বাকুতে বসতে চলেছে ‘ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল’। এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কেবল মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ ফুটবল দলের প্রধান কোচ ভিভিয়ানো ফার্নান্দেজ। তাঁর মূল লক্ষ্য—ভারতের এই উদীয়মান কিশোরদের ফুটবলের শক্ত ভিত তৈরি করে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলা।
কোচ ভিভিয়ানো মনে করেন, প্রস্তুতির সময়কাল থেকেই দলটির মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশ্বের সেরা তরুণ প্রতিভাগুলোর মুখোমুখি হতে খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিকভাবে যেমন নিজেদের শক্ত করছে, তেমনই খেলার কৌশল বোঝার ক্ষেত্রেও উন্নতি করেছে। তাঁর কৌশলের একটি অন্যতম প্রধান দিক হলো দলের জন্য একটি নিজস্ব খেলার শৈলী তৈরি করা। ম্যাচের প্রতিটি ধাপে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি নির্ভীক ফুটবল খেলার জন্য ছেলেদের তিনি উৎসাহিত করছেন।
এআইএফএফ পিআর টিমকে ভিভিয়ানো ফার্নান্দেজ বলেন ‘বল আমাদের দখলে থাকুক বা প্রতিপক্ষের পায়ে, আমরা কীভাবে খেলব সে সম্পর্কে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি দল গড়ে তোলা যা বল পায়ে রাখলে সাহসী, ডিফেন্সের সময় আক্রমণাত্মক এবং মাঠের ভেতরে সুশৃঙ্খল থাকবে। ‘
এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতীয় তরুণদের বিভিন্ন স্টাইল, টেকটিক্যাল সিস্টেম ও কৌশলে অভ্যস্ত প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিতে ভীত না হয়ে, পরিস্থিতি বুঝে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন কোচ। মূল নীতি ঠিক রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী খেলায় নমনীয়তা আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ভিভিয়ানো আরও যোগ করেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের খেলার ধারার ওপর স্পষ্ট ধারণা থাকা, পাশাপাশি ভিন্ন প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখা।’ তবে তাঁর কাছে যুব ফুটবলের বিকাশ কেবল কৌশল এবং পারফরম্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলোয়াড়দের জন্য একটি ইতিবাচক ও সুস্থ পরিবেশ তৈরি করাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি চান তরুণ ফুটবলাররা যাতে খোলামেলাভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে এবং মাঠে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এই সত্যটি বুঝে যে ভুল হওয়াও ফুটবল শেখার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
মাঠের বাইরেও ভিভিয়ানোর দর্শন ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সফল ফুটবলার হওয়ার প্রথম শর্ত হলো একজন ভালো মানুষ হওয়া।
কোচ ফার্নান্দেজের মতে ‘প্রথম ও প্রধান কাজ হলো একজন ভালো মানুষ হওয়া, কারণ প্রতিভার মতোই একজন খেলোয়াড়ের চরিত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
ধৈর্য, শৃঙ্খলা, নম্রতা এবং প্রতিনিয়ত উন্নতি করার প্রবল ইচ্ছাকেই পাথেয় করছেন ভিভিয়ানো ফার্নান্দেজ। ভারতীয় ফুটবলের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ‘গ্রুপ কে’-তে ভারতের সাথে রয়েছে বাহরাইন, ক্যামেরুন, গ্রেনাডা, লাওস ও সেনেগাল। নীল বাঘিনীদের (ব্লু কোল্টস) এই অভিযান শুরু হবে আজারবাইজানের বাকুস্থিত ‘হোভসান কমপিটিশন কমপ্লেক্স’-এ। ২৪ অক্টোবর ভারতীয় সময় সকাল ১১:৪৫ মিনিটে লাওসের বিরুদ্ধে প্রথম বাছাই পর্বের ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত। ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভারতীয় ফুটবলের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্টটি খুদে ফুটবলারদের জন্য এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে।














