ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে যুবসমাজই প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার লখনউতে জাপান ও ভারতের একটি যৌথ প্রতিনিধিদলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে জাপানের ইয়ামানাসি প্রিফেকচারের গভর্নর কোতারো নাগাসাকি, জাপানের ১৩ জন হাইস্কুল পড়ুয়া এবং লখনউ শহরের বিভিন্ন স্কুলের ২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তরুণ প্রতিনিধিদের উদ্দেশে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও যৌথ অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের সবচেয়ে মজবুত সম্পর্ক গড়ে ওঠে ক্লাসরুম, শিক্ষাঙ্গন, গবেষণাগার এবং তরুণ প্রজন্মের মননশীল ভাবনার মধ্যে। আমাদের সন্তানরা যেন একে অপরের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন বুঝতে পারে; তারা একসঙ্গে শিখুক এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাক। কারণ আজকের এই পড়ুয়ারাই আগামী দিনে ভারত-জাপান অংশীদারিত্বের সবচেয়ে কার্যকর দূত হয়ে উঠবে।”
ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানের ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতের মেধার মেলবন্ধন বৈশ্বিক ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি বলেন, “জাপান তার উন্নত প্রযুক্তি, প্রাচীন ঐতিহ্য ও কর্মনিষ্ঠার জন্য বিশ্বখ্যাত। জাপানের ‘ইকিগাই’ দর্শন, যৌথ কাজের সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যখন ভারতের তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তি ও প্রতিভার সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন তা আন্তর্জাতিক স্তরে অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করবে। আজ তোমরা যারা শিক্ষার্থী, তোমরাই আগামী দিনে বিজ্ঞানী, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ, নীতি-নির্ধারক এবং বিশ্বনেতা হয়ে উঠবে।”
এই সহযোগিতার ভিত্তিকে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘বসুধৈব কুটুম্বকম'(সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস’ ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের অযোধ্যা, আগ্রার তাজমহল পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রাচীন নগরী বারাণসী ও ভগবান বুদ্ধের প্রথম ধর্মোপদেশের স্থান সারনাথ সফরের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। ইয়ামানাসির গভর্নর কোতারো নাগাসাকিও দ্বিপাক্ষিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে টিমওয়ার্ক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।














