রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী থাকল বাংলা।বৃহস্পতিবার নিউটাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি টেক হাবে আদানি আরোগ্য মন্দির-এর ভূমিপুজো ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠতে চলা এই প্রকল্পে থাকবে ২,০০০ শয্যা, যার অর্ধেক অর্থাৎ ১,০০০ শয্যা সংরক্ষিত থাকবে আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য, একেবারে বিনামূল্যে। ৫১.৭৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই হাসপাতাল বছরে দুই লক্ষেরও বেশি ইনপেশেন্ট এবং কুড়ি লক্ষাধিক আউটপেশেন্টকে পরিষেবা দেবে, এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রায় দশ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কোথাও গরিবদের জন্য এমন উচ্চমানের স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা নেই। তিনি জানান, তাঁর সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই দ্রুতগতিতে এই প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যনগরী, থাকবে মেডিটেল ও রোগীর আত্মীয়দের জন্য বিশ্রামাগারও।এদিনের মঞ্চ থেকে আদানি গোষ্ঠীকে বাংলায় আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাম আমলে ট্রেড ইউনিয়নের জেরে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর গত সরকারের আমলে শিল্পের বদলে শুধু ভাতা বিতরণ ও রাজনীতি হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীকেই বাংলাকে ফের দাঁড় করানোর আহ্বান জানান তিনি, সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেন সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করার।
দাদনপাত্র বারে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং কল্যাণীতে সম্ভাব্য গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্প নিয়েও এদিন আলোচনা হয়।জবাবে গৌতম আদানি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের গোষ্ঠীর। বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সড়ক-সেতু নির্মাণ, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ঘোষণা করেন তিনি। আদানি আরোগ্য মন্দিরে হাসপাতালের পাশাপাশি থাকবে একটি মেডিক্যাল কলেজ এবং উন্নত গবেষণা কেন্দ্রও। স্ত্রী প্রীতি আদানি ও পুত্র করণ আদানির উপস্থিতিতে ভূমিপুজো সম্পন্ন করেন গৌতম আদানি।














