রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রথমবার কাকদ্বীপ সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ হেলিকপ্টারে কাকদ্বীপের স্টিমার ঘাট সংলগ্ন স্টেডিয়াম ময়দানে অবতরণ করেন তিনি। এরপর কাকদ্বীপ রবীন্দ্রভবনে পৌঁছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখান থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার, রাজ্যের মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল, গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর-সহ জেলার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে সুন্দরবনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলার পরিকাঠামো ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে জনসভায় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক বার্তা দেন তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুন্দরবনের ১৩টি ব্লকে উন্নয়নের জোয়ার পৌঁছে দেওয়াই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে ২০২৫ সালের কালীপুজোর দিনের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রিজন ভ্যানে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে ঘটনাটিকে সনাতন ও শক্তির জয় বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। এদিন অনুপ্রবেশ রোখা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে নাবালিকার বিয়ে হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ ও তাঁদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম কাকদ্বীপ সফরে সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।














