পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনায় উপভোক্তা বাছাইয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না। পঞ্চায়েত দফতরে কর্মীর ঘাটতি, লাগাতার বৃষ্টি এবং একাধিক সরকারি কাজ একসঙ্গে চলার কারণে সমীক্ষার সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১১ হাজারের বেশি কর্মী না থাকায় সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন সময়সীমায় কোনও যোগ্য পরিবার যাতে সমীক্ষার বাইরে না থাকে, সেটিই এখন দফতরের প্রধান লক্ষ্য। যে সব বাড়িতে এখনও সমীক্ষাকারীরা পৌঁছতে পারেননি, তাদের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কোনও কারণে সমীক্ষা না হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের নাম ও ঠিকানা ই-মেলে জানানো যাবে। সেই তথ্য পাওয়ার পরে সেখানে কর্মী পাঠিয়ে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। বৈঠকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আগের পর্যায়ের হিসাব নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০ লক্ষ বাড়ির জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। প্রায় ১২ লক্ষ বাড়ির নির্মাণ শেষ হলেও ওই উপভোক্তাদের যোগ্যতা নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। প্রায় ১৮ লক্ষ বাড়ির কাজ এখনও বাকি। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ২০ লক্ষ ২০ হাজার উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছেছে। যাচাইয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার জনকে অযোগ্য বা ভুয়ো বলে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি মন্ত্রীর।
তাঁদের অর্থ ফেরতের নোটিস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার জন টাকা ফেরত দিয়েছেন। অনিয়ম ঠেকাতে রাজ্যের ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট চলছে। দিলীপ বলেন, “কেন্দ্রীয় দলের পরিদর্শন ও রিপোর্টের পর বন্ধ থাকা কাজ ফের চালু হয়েছে। তবে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট চলছে। আবাস ও ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও গণ্ডগোল ধরা পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা আবাস যোজনার নামে গরিব মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে তারা কেউ রেহাই পাবে না।” বৈঠকে ১২৫ দিনের কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হয়। নতুন সময়সীমায় আবাসের সমীক্ষা কতটা এগোয়, এখন নজর সেদিকেই।
No Photo
Complete














