দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরতেই উত্তরবঙ্গের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় ফের হাতির হানা। পাকা ধানের টানে লোকালয়ে ঢুকে বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট করছে হাতির দল। আতঙ্কে রাত জেগে খেত পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। গ্রামবাসীদের কাছে হাতির নাম তাই মহাকাল। চলতি অক্টোবরেই তরাই-ডুয়ার্সে হাতির হামলায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে।বন দফতর সূত্রে খবর, প্রতি বছর ধান পাকার মরসুমে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির আনাগোনা বাড়ে। পুজোর দিনগুলিতে আলোকসজ্জা ও মাইকের শব্দে হাতির দল লোকালয়ে কম বেরিয়েছিল।
দশমীর পর সেই কোলাহল কমতেই সন্ধ্যার অন্ধকারে ধানখেতে হানা দিচ্ছে তারা। রাতভর ফসল খেয়ে ভোরের আগে জঙ্গলে ফিরছে।১৩ অক্টোবর আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া থানার দলমোড় চা বাগানে হাতির হানায় মৃত্যু হয় ৭০ বছরের কালু থাপার। তার আগে ওই এলাকায় আরও এক জনের মৃত্যু হয় হাতির আক্রমণে। ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী বাহাদুরগঞ্জেও হাতির হানায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ।তরাইয়ের মতিধরের চাষি সুরেন বর্মনের কথায়, ধান কেটে ঘরে তোলার সুযোগই মিলছে না। রাতের মধ্যে বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট করছে হাতির দল।পরিবেশপ্রেমীদের মতে, হাতির চিরাচরিত যাতায়াতের পথ ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় সংঘাত বাড়ছে।
মেচি থেকে সংকোশ নদী পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের এলিফ্যান্ট রেঞ্জে সাত শতাধিক হাতি রয়েছে। জনবসতি ও চাষের জমি বাড়ায় তাদের বিচরণক্ষেত্র খণ্ডিত হচ্ছে।সংঘাতের বলি হচ্ছে হাতিরাও। নাগরাকাটায় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। রাজগঞ্জেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে আরেকটি হাতি। পরিস্থিতি সামলাতে হাতির চলাচলের পথে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বন দফতর।














