ক্ষমতা হারানোর পর সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করার বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে তিনি ঘোষণা করেন, ‘রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া, নির্যাতনের শিকার বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো কর্মীরা আইনি সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন’। সেই সঙ্গে একটি ফোন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। একসময় তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচিই নতুন রূপে ফিরছে। প্রথমে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রকে ঘিরে এই উদ্যোগ শুরু হলেও পরে তা গোটা রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ফের সেই পরিষেবা চালু করায় রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক নিজেও একাধিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর বাসভবনে তল্লাশির ঘটনাও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। সেই আবহেই কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ‘শুধু ফোন নম্বর দিয়ে কর্মীদের পাশে থাকা যায় না। সংগঠনকে মানুষের কাছে পৌঁছতে হয়। ফোন বা অনলাইন বৈঠকে রাজনৈতিক লড়াই হয় না।
আমরা সরাসরি কর্মীদের পাশে দাঁড়াব’। কালীঘাট শিবির ছেড়ে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও কটাক্ষ করে বলেন, ‘চার্টার্ড বিমানের খরচ বাঁচিয়ে সেই অর্থ কর্মীদের বিপদের সময় কাজে লাগানোই বেশি প্রয়োজন’। ভোটের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মামলা এবং সংগঠনের দুর্বলতা নিয়ে তৃণমূলের ভিতরে-বাইরে আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে ‘এক ডাকে অভিষেক’কে অনেকেই শুধুমাত্র একটি হেল্পলাইন নয়, কর্মীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। এখন দেখার, এই উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে নতুন আস্থা ফিরিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারে কি না। কারণ, বিরোধী আসনে বসার পর তৃণমূলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মাঠের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করা।













