‘আমার অনেক সৌভাগ্য, আজ গঙ্গাসাগর ও কপিল মুনির আশ্রমের দর্শন পেলাম। খুব শীঘ্রই গঙ্গাসাগরকে রাষ্ট্রীয় মেলার মর্যাদা দেওয়া হবে।’ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার হওয়ার পরের প্রথমবার বাংলা সফরের এসে গঙ্গাসাগরের স্নান করে কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে এমন ঘোষণা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে এখানে মানুষ আমাদের ভালবাসা জানাচ্ছেন, কথা দিচ্ছি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতিসহ আমরা সকলে মানুষের সেবায় নিমজ্জিত থাকব।’ বঙ্গবিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দলীয় বৈঠক সারতে গতকাল অর্থাৎ রবিবার কলকাতায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
সফর চলাকালীন আজ সকালে গঙ্গাসাগরে গিয়েছেন তিনি। তাঁর সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতে জোর দেওয়া হয়। গঙ্গাসাগরে গিয়ে প্রথমেই তিনি কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেন। আশ্রম চত্বরে আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের চলাচলের উপরেও নজর রাখা হয়। নীতিন নবীনের পুজো দেওয়ার কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রস্তুতি নেওয়া হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। আশ্রম চত্বরের আশপাশে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নিতিন নবীনের এই সফর ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাজায়েদিন সকালে গঙ্গাসাগরে পৌঁছে স্নান সেরে কপিল মুনির আশ্রমের দর্শন করেন নীতিন নবীন। গঙ্গাস্নান সেরে মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর হেলিকপ্টারে করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন সর্বভারতীয় সভাপতি। সফরের দ্বিতীয় দিন পানিহাটিতে ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আর এই অনুষ্ঠানেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন নিতিন। জানিয়ে দেন দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করছেন শুভেন্দু। প্রসঙ্গত, পানিহাটির অনুষ্ঠানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, ‘অগাষ্টেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন ৫০০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দিদিদের আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা খরচে মিলবে চিকিৎসা।’ শিশুদের স্বার্থে খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও এদিন ফের জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘শিশুদের খাবারের বরাদ্দ ২ টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে। প্রসূতিদের ১২ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪ টাকা।
এই মুহূর্তে ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি চলছে ভাড়া করা বাড়িতে। আগামীতে সেগুলো সরকারের নিজস্ব ঠিকানায় হবে। তার জন্য অর্থ বরাদ্দও করা হয়েছে।’ এখানেই শেষ নয়, আইসিডিএস কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। বলেন, ‘ওদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন নিতিন নবীন। জানিয়ে দেন, দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বাংলা। ২০৪৭ সালে দেশের একনম্বর রাজ্য হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বাংলায় পালা বদলের জন্য রাজ্যবাসীকেও ধন্যবাদ জানান নিতিন নবীন।














