আমূল থেকে শুরু করে ইফকো— গুজরাতের মাটি সমবায় আন্দোলনের সাফল্যের একাধিক মহাকাব্য দেখেছে। এবার সেই সমবায়ের রথ ছুটতে চলেছে রাজ্যের চওড়া রাজপথেও। দেশের প্রথম সমবায়-ভিত্তিক রাইড-হেলিং পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, শনিবার গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দির কনভেনশন সেন্টারে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির চাকা গড়াবে। গত বছরের ডিসেম্বরে রাজ্যে এর একটি ‘সফট লঞ্চ’ বা পরীক্ষামূলক দৌড় হয়েছিল, আজ থেকে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’ (সমবায়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধি) স্লোগানকে সামনে রেখেই এই অভিনব উদ্যোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চলে প্রথম এই পরিষেবার উদ্বোধন করেছিলেন শাহ। দিল্লি, গুরুগ্রাম, নয়ডা, ফরিদাবাদ এবং গাজিয়াবাদে ইতিমধ্যেই এই ট্যাক্সি বেশ জনপ্রিয়। এবার পালা গুজরাতের। এই ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি বা মন্ত্রটি হলো— ‘সারথি হি মালিক’, অর্থাৎ যে গাড়ি চালাচ্ছেন, সমবায়ের নিয়মে তিনিই এই ব্যবসার অংশীদার বা মালিক। ওলা বা উবেরের মতো বহুজাতিক কর্পোরেটদের টেক্কা দিতে এই ‘জিরো-কমিশন’ বা দালালিহীন মডেলটি আনা হয়েছে, যেখানে চালকদের আয়ের কোনও অংশ সংস্থাকে দিতে হবে না। উপরন্তু বিমা, ঋণ, পেনশন এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন চালকেরা।
ইতিমধ্যেই গুজরাতের মাটিতে এই ‘ভারত ট্যাক্সি’ বেশ ভালো রকম সাড়া ফেলেছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় দেড় লক্ষ ‘সারথি’ (চালক) এবং সাত লক্ষেরও বেশি গ্রাহক এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সারা দেশের নিরিখে এই সংখ্যাটা আরও চমকপ্রদ— ৭ লক্ষ চালক এবং ৩৭ লক্ষ গ্রাহক প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সফর সম্পন্ন করছেন। প্রাথমিক পর্বে আহমেদাবাদ, সুরাত, বরোদা, রাজকোট, দ্বারকা, সোমনাথ, জামনগর ও ভাবনগরের মতো গুজরাতের ১৪টি প্রধান শহরে এই পরিষেবা চালু হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গোটা রাজ্যেই এই চাকা ঘুরবে বলে আশাবাদী সমবায় মন্ত্রক।
এদিনের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে অমিত শাহের সঙ্গে উপস্থিত থাকছেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, রাজ্যের শীর্ষ মন্ত্রীরা এবং সমবায় মন্ত্রকের সচিব আশিস কুমার ভুটানি। সমবায়ের এই মালিকানা মডেলকে আরও জোরদার করতে অনুষ্ঠানে কৃতি চালকদের হাতে শেয়ার সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মউ-ও স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’-এর তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটির নেপথ্যে স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে এনসিডিসি, আমূল, এনডিডিবি, নাফেড, ইফকো, কৃভকো, নাবার্ড এবং এনসিইএল-এর মতো দেশের আটটি বৃহৎ সমবায় প্রতিষ্ঠান।
মাল্টি-স্টেট কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ অ্যাক্টের অধীনে নথিভুক্ত এই পরিষেবা যাত্রীদের জন্য বাইক, অটো এবং ক্যাব— তিন রকম বিকল্পই রাখছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তি, এতে কোনও ‘সার্জ প্রাইসিং’ বা অসময়ে অতিরিক্ত ভাড়ার চক্কর থাকবে না। যাত্রী সুরক্ষায় গুজরাত পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে সমবায়ের এই চাকা গোটা দেশের প্রতিটি রাজ্যে ঘোরানোর পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লির।














