গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবরে সিলমোহর দিলেন কবি শ্রীজাত। বুধবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া এই খবরকে প্রথমে বিস্ময়কর মনে হলেও পরে কবি নিজেই জানিয়েছেন যে খবরটি সত্য। তাঁর দাবি, অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্র মারফত তিনি এই খবরের সত্যতা জানতে পেরেছেন।
২০১৯ সালের একটি পুরনো মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের লোকসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই আইনি পদক্ষেপ কেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলে। এদিন সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যমের ফোনে কবির কাছে পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে শুরু করে। প্রথমে চরম বিস্মিত হলেও পরে বিভিন্ন মহলে খোঁজখবর নিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে সত্যিই কৃষ্ণনগর আদালত একটি মামলার অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
শ্রীজাত জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই পরোয়ানা লালবাজার হয়ে স্থানীয় থানায় পৌঁছবে। তবে ২০১৯ সালের মামলার জেরে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগের দিন এই পুলিশি সক্রিয়তা কবির কাছে অত্যন্ত রহস্যজনক এবং গভীর রাজনৈতিক অঙ্ক বলে মনে হয়েছে। এই বিতর্কের মাঝে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রীজাত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর ভুয়ো নয়, নির্বাচন কমিশন হঠাৎ কেন উত্তর দিতে এল’।
কবির অভিযোগ, যেখানে তিনি নিজে বা তাঁর পরিবারের কেউ এই ঘটনার জন্য কাউকে এখনও দায়ী করেননি, সেখানে কমিশন আগ বাড়িয়ে কেন এটিকে ‘ভুয়ো’ বলে প্রচার করতে নামল? কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে যোগাযোগের প্রস্তাব দেওয়া হলেও কবি সাফ জানিয়েছেন, তিনি কেন নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। তাঁর মতে, নির্বাচনের মুখে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা সমাজে বিপুল ভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যা একেবারেই কাম্য নয়। আদালতের সমন প্রসঙ্গে শ্রীজাত স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে কোনও সমন তাঁর হাতে আসেনি।
তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের আইনি নথিপত্র নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। সমন পেলে তাঁরা অবশ্যই তাকে আইনি গুরুত্ব দিতেন। কবি মনে করছেন, প্রায় ন’বছর আগে তাঁর একটি লেখাকে কেন্দ্র করে যে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান ঘটনাটি সেই একই অধ্যায়ের নতুন সংযোজন। তাঁর আশঙ্কা, এই মামলাও সম্ভবত তাঁর কোনও পুরনো লেখা বা বিতর্কিত কবিতাকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে। পুরো ঘটনাপ্রবাহে ‘আদর্শ রাষ্ট্র’ এবং সেখানে কবির অবস্থান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীজাত।
১০ বছর আগের কবিতার ছায়া কেন আজও রাষ্ট্রযন্ত্রকে এভাবে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, তা নিয়ে তিনি বিস্মিত। প্লেটোর দর্শনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা কি তবে সেই তথাকথিত আদর্শ রাষ্ট্রের দিকেই এগোচ্ছি যেখানে মুক্তমনা কবিদের কোনও স্থান নেই? আপাতত আদালতের পরোয়ানা হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কবি। তবে ভোটের আগের এই আকস্মিক আইনি জটিলতা যে তাঁর পরিবারের স্বাভাবিক মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মেনে নিয়েছেন শ্রীজাত। কবির এই বয়ান রাজ্য রাজনীতিতে এখন নয়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফাইল ফটো।














