মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতেই হবে! নির্বাচন কমিশনের বিরোধ নিয়ে যে খবর প্রকাশ্যে এসেছে সেই ইস্যুতে স্পষ্ট দাবি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি কমিশনের ঘটনা নিয়ে সরব হন।একাধিক ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাকি দুই কমিশনারের বিবাদ হয়েছিল বলে খবর এসেছে। সেই নিয়ে এখন তোলপাড় দেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রেক্ষিতে দাবি, একমাত্র বিজেপির হয়ে কাজ করাই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য। আর আজ সেটাই গোটা দেশের সামনে বেআব্রু হয়ে গেছে। মমতার দাবি, সর্বপ্রথম তাঁরাই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট চেয়েও চিঠিও দিয়েছিলেন।
কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।কমিশন সংক্রান্ত ইস্যুতে আরও বড় দাবি করেন মমতা। তিনি পরিষ্কার করে জানান, জ্ঞানেশ কুমারের জন্যই বিজেপি ২০২৪-এ জিতেছে, ২০২৫ ও ২০২৬-এ যত ভোট হয়েছে তাতেও কমিশনের জন্যই জয় পেয়েছে তারা। এমনকী ২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটেও কমিশনের সাহায্যে লুট করে বিজেপি জয় পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাই মমতার দাবি, যেসব ভোটারদের নাম বাদ গেছে, তাদের নাম সমস্ত পুরনো তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি জিতেছে, সেই রাজ্যগুলিতে আবার পুরনো ভোটার তালিকায় ফের ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিআইজি পদে থাকা সীমা খন্না ও কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যারের ভূমিকা নিয়েও এখন চর্চা শুরু হয়েছে। সে নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, কাউন্টিং পুরোটাই হাইজ্যাক করেছিল বিজেপি। সীমা খান্নার ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁকে প্রথম এক্সপোজ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসআইআর-এর নতুন মানে ব্যাখ্যা করেন। মমতার মতে, এটি এখন – স্পেশ্যাল ইনসেন্টিভ ফর রুলিং পার্টি!জ্ঞানেশ কুমারকে ফের একবার আক্রমণ করে মমতা বলেন, যাঁর ভ্যানিশ হওয়ার দরকার সে ভ্যানিশ হলেই বিজেপির সব শেষ হয়ে যাবে। এই চেয়ারটা ওঁর জন্য নয়। এসআইআরের নামে ইভিএম দখল করে, হাইজ্যাক করে জ্ঞানেশ কুমাররা বিজেপিকে জিতিয়েছে।এই ক্ষেত্রেই সীমা খান্নার নাম নিয়ে সরব হন মমতা। বলেন, তাঁর যাঁরা মদতদাতা তাঁদের গ্রেফতার দরকার।আসলে ২৬-এর নির্বাচনের অনেক আগেই সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করেছিলেন, উনি (সীমা খান্না) নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, কমিশনের অ্যাপে গোলযোগ আছে।
অভিষেকের অভিযোগ ছিল, এসআইআর-এ কমিশনের অ্যাপ ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাই মূল কলকাঠি নেড়েছিলেন। অভিষেকের আক্রমণের প্রায় এক মাস পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও নিশানাতে ছিলেন সীমা। তাঁর দাবি ছিল, এআই দিয়ে কাজ করে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছেন সীমা খান্না। এদিকে উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন, বিজেপির আইটি সেলের। সেই প্রসঙ্গই এখন আবার ফিরে এল। ইতিমধ্যে কমিশনের এই ইস্যুতে আবার একবার জোট-বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, গণজাগরণ হওয়া উচিত। আঞ্চলিক সব দল, ইন্ডি-জোটকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।















