Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

তৃণমূল এজেন্টদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও কোর্টে মামলা

তৃণমূল এজেন্টদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও কোর্টে মামলা

বালিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি সহ একাধিক এজেন্টকে সোমবার রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে আনা হয় বলে তৃণমূলের অভিযোগ। বালির সতীশ চক্রবর্তী লেন সহ একাধিক পাড়ায় বাড়িতে হানা দিয়ে এইভাবে এজেন্টদের তুলে আনা হয় বলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই সেখানে ছুটে আসেন বালির তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র। তিনি গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে তাঁর সঙ্গে পুলিশ ও কমিশনের আধিকারিকদের মধ্যে বচসা এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপরই বেলুড় থানার সামনে রাতে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন কৈলাশ।

 

কৈলাশ মিশ্র বলেন, ‘বালি, বেলুড়, লিলুয়াতে এবং সারা বাংলায় হিলটলারি শাসন চলছে। কোনওরকম নোটিশ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই ওয়ার্ডের সভাপতি, বুথ এজেন্টদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশকে জিজ্ঞেস করলেই বলছে অবজারভার বলেছেন। সোমবার শেষ দিনের প্রচার শেষেও সন্ধ্যা ৬টার পর বহিরাগতদের এখানে দেখে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছিলেন। তার জন্যই গভীর রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত বুথ এজেন্টের বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে তুলতে এসেছে। আমি কমিশনের প্রতিনিধি ও পুলিশের পদাধিকারীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনাদের কাছে এদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসার কোনও নোটিশ আছে কি না বা ওয়ারেন্ট আছে কি না। কিন্তু ওনারা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। আমাকে পর্যন্ত ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। আসলে বিজেপির সঙ্গে পার্টির ছেলে নেই।

 

 

এজেন্ট নেই। বুথে এজেন্ট বসাতে পারছে না। এই কারণে প্রতিহিংসায় নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে। আমাদের অনেক বুথ কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বালির মানুষ আগামী ২৯ তারিখ এর যোগ্য জবাব দেবে।’ উল্লেখ্য, এই বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে কৈলাশ মিশ্র জানান, লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ কমিশনার সহ প্রশাসনের সর্বস্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এমনকি, মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে পুলিশি জুলুমবাজি ও অভব্য আচরণের প্রতিবাদে এলাকার মহিলারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা এই ব্যাপারে আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে কৈলাশ আরও বলেন, ‘ভোটের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বহিরাগতদের এলাকায় থাকার নিয়ম নেই।

 

অথচ সোমবার রাতে বিজেপির প্রতীক লাগানো গাড়িতে করে ৬ জন বহিরাগত এলাকায় ঢুকেছিল। স্থানীয়রা পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে পুলিশ আমাদের কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ধরপাকড় শুরু করে। আমাদের ৪ জন বুথ এজেন্টকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওয়ার্ডের যুব তৃণমূলের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। খবর পেয়েই আমি সেখানে ছুটে যাই। বেলুড় থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। কী কারণে আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করা হল তা পুলিশের কাছে জানতে গেলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। আমাদের কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তাণ্ডব চালালেও আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও কমিশন কোনও পদক্ষেপ দুপুর পর্যন্ত নেয়নি।

 

আমাদের বুথ এজেন্ট রাহুল রায়, রমেন নিয়োগী, রাকেশ চক্রবর্তী ও সোনু পালকে কার্যত বিনা অপরাধে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। রমেন ও রাকেশ যুব তৃণমূলের বালি ব্লকের সহ-সভাপতি। রাহুল বালি ব্লক যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। আমাদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূলের সভাপতি সুরজিৎ বিশ্বাসের বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায় পুলিশ। যেভাবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আমাদের কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালাল বালির মানুষ ভোটবাক্সে তার জবাব দেবেন। অথচ বিজেপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে এলাকায় সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করলেও নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

READ MORE.....