একদা হাওড়া শিল্পাঞ্চলকে ‘শেফিল্ড অফ ইস্ট’ বলা হতো। ওই সময়েই ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের অসংখ্য ছোট-বড় কলকারখানা গড়ে ওঠে এই শহরে। এবং সেই কারখানাগুলিতে প্রচুর শ্রমিক কাজ করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। এমনকি বাইরের রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরাও এখানে কাজ করতেন।
কিন্তু শিল্পে মন্দার কারণে ধীরে ধীরে হাওড়া তার গরিমা হারায়। রেলের ওয়াগান তৈরির কারখানা বার্ন স্ট্যান্ডার্ড, জাহাজ তৈরির কারখানা হুগলি ডক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা ইন্ডিয়ান মেশিনারি, গেস্ট কিন উইলিয়ামস, বাউড়িয়ায় ন্যাশনাল জুটমিল সহ একাধিক বড় কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। সেগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ অবস্থায় আছে।
কারখানার ভিতর এখন ভাঙা শেড আর ঝোপ-জঙ্গল আগাছায় ভর্তি। বর্তমানে হাওড়ার বেশিরভাগ জুটমিল, কেন্দ্রীয় সরকারের আরতি কটন মিল সহ অসংখ্য ছোট ছোট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলো বিনিয়োগ এবং পরিকল্পনার অভাবে ধুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলই শিল্পের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছে। বিজেপি নেতা এবং উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী উমেশ রাই বলেন, ‘হাওড়ায় শিল্প শেষ। ছোট ছোট লোহার কারখানাগুলোর পাশাপাশি সালকিয়ায় হোসিয়ারি শিল্পের কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে শিল্পের উন্নতি না হওয়ার মূল কারণ আইনশৃঙ্খলার অবস্থা।
আইনশৃঙ্খলা ভালো না হলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে না। তাই এখানে দুরবস্থা। এখানে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে আইটি সেক্টর থেকে বড় কারখানা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পাঁচ বছরে এক কোটি লোকের চাকরি হবে।’ এর পাশাপাশি কংগ্রেস নেত্রী এবং শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী শ্রাবন্তী সিং শিল্পের দুরবস্থার জন্য দায়ী করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার আরতি কটন মিলকে রুগ্ণ করে রেখেছে। শ্রমিকদের প্রাপ্য দিচ্ছে না।
একটা সময়ে ছোট ছোট লোহার কারখানা থেকে প্রচুর পরিমাণে ছাঁট লোহা তৈরি হতো। সেটা বিক্রি করেও প্রচুর মানুষ সংসার চালাতেন। এখন সেসব বন্ধ। বাধ্য হয়ে ছোট কারখানার শ্রমিকরা টোটো চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার।’ এদিকে, বিদায়ী সরকারের মন্ত্রী এবং মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায় বলেন, ‘বিরোধীরা কানা, তারা দেখতে পায় না। বামফ্রন্টের আমলে শিল্পের পরিস্থিতি খারাপ ছিল, এটা অস্বীকার করা যায় না। তবে তৃণমূল সরকারের আমলে জাতীয় সড়কের দু’পাশে প্রচুর বড় বড় কারখানা তৈরি হয়েছে। হাওড়ায় এখন শিল্প এসেছে।’













