রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেটকে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের রূপরেখা বলে দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশ করার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট তৈরির ভাবনা শুরু হয়েছিল নির্বাচনের আগেই। শমীকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে দেশের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশে থাকা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতামতও নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সেই সমস্ত অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের ভিত্তিতেই বর্তমান বাজেটের কাঠামো তৈরি হয়েছে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘এটি একটি সর্বাঙ্গীণ বাজেট। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনে নতুন পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। শুধু মহিলাদের সুরক্ষা নয়, তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। এখনও অনেক কাজ বাকি, কিন্তু সরকার সেই পথে এগোতে শুরু করেছে’। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি যে অবস্থায় পৌঁছেছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব করা যায়, সেই চেষ্টাই করা হয়েছে। কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো—সব ক্ষেত্রের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই এই বাজেট তৈরি হয়েছে’। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, সরকার গঠনের পর থেকেই কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
তবে রাজ্যের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন বলেও তিনি জানান। বাজেটে নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে শমীক বলেন, প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। মানুষের আরও কাছাকাছি প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে নতুন জেলা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই দাবি বিজেপির। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, মানুষের প্রত্যাশা, উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পথচলার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।














