শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দুলাল মুর্মুর সমর্থনে নয়াগ্রাম ব্লকের বালিগেড়িয়া এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। ওই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দুলাল মুর্মুসহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্ব।
বালিগেড়িয়াতে নির্বাচনী জনসভায় ঘাটালের সাংসদ অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব তাঁর ভাষণে বলেন, ‘যে কথা দিয়ে কথা রাখে তার পাশে থাকা দরকার। আমি আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিতে বলিনি। যদি আমাদের সরকার আপনাদের জন্য কোনো কাজ করে থাকে, তাহলে আপনারাই চিন্তাভাবনা করবেন। সারা দেশের মধ্যে প্রথম বাংলায় সবুজসাথী ও রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গরিব ছেলেমেয়েরা যাতে স্কুলে যেতে পারে তার জন্য তিনি সবুজসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘গরিব বাবা-মায়েরা যাতে তাঁদের মেয়ের বিয়ে দিতে পারেন, তার জন্য রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিল ৫০০ টাকা দিয়ে; এখন সাধারণ মায়েরা পাচ্ছেন ১৫০০ টাকা এবং এসসি ও এসটি সম্প্রদায়ের মায়েরা পাচ্ছেন ১৭০০ টাকা। যাতে মেয়েরা স্কুলছুট না হয় তার জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন, এছাড়াও একাধিক প্রকল্প চালু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিলে কথা রাখেন; তিনি যা প্রতিশ্রুতি দেন সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হোক মন্দির-মসজিদ তৈরির জন্য নয়, এলাকার রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে।’ তাই তিনি ওই সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দুলাল মুর্মুকে কাজের নিরিখে ঘাসের ওপর জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে আশীর্বাদ করার জন্য আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘দুলাল মুর্মু জয়লাভ করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।’
তাই বাংলার উন্নয়নকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, জাতপাত ও ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য এবং বাংলায় শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ঘাসের ওপর জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের আশীর্বাদ করার আবেদন জানান।













