বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্পের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে টেন্ডার বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। কমিশনের এক পুলিশকর্তা কে জয়রামন জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল জেলার লোকসংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও স্থানীয় ইতিহাসকে সামনে আনা।
সেই কর্মসূচির অংশ হিসাবে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ২৩টি জেলায় মেলা, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। অভিযোগ, ওই দুই বছরে কাজের বরাত বারবার কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্থার হাতেই গিয়েছে। সেই সংস্থাগুলির মালিকদের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠদের সম্পর্ক রয়েছে কি না, এখন সেটিই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগের পরিমাণও কম নয়। মেলার স্টল তৈরি, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাউল, ভাটিয়ালি বা আদিবাসী শিল্পীদের অনুষ্ঠান—বিভিন্ন কাজের জন্য বরাত দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দুই বছরে এই খাতে কয়েকশো কোটি টাকার কাজ হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্য সংস্থাগুলি দরপত্রে অংশ নিলেও কেন একই গোষ্ঠীর সংস্থাগুলি বারবার কাজ পেল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কমিশন।
তদন্তের পরিধি শুধু টেন্ডারেই আটকে নেই। কোন মেলার জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, বরাত পাওয়া সংস্থাগুলি বাস্তবে কত খরচ করেছে এবং তাদের লাভের পরিমাণ কত—সেই হিসাবও দেখা হচ্ছে। মেলার স্টলে স্থানীয় শিল্পীদের পণ্য বিক্রি থেকে কোনও কমিশন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য এই রিপোর্ট প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়। তবে পুজোর পাস সংক্রান্ত মামলায় ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন এই তদন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিসর আরও বাড়াল। তদন্ত শেষে কমিশন সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে।













