Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বাংলায় ভোটের সুনামি

বাংলায় ভোটের সুনামি

বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে ভোটদানের হার ঝাঁপিয়ে গেল পুরনো যাবতীয় ভোটের রেকর্ড। প্রবল দাবদাহের মধ্যেও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মালদহ থেকে পূর্ব মেদিনীপুর সর্বত্র ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সামনে চোখে পড়েছে বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভিড়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সকাল থেকে সবথেকে বেশি সংখ্যায় লাইনে দেখা গিয়েছে মহিলাদের।

 

বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও যেকোনো কারণেই হোক এবারে সাধারণ মানুষ দলে দলে গিয়েছেন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, যে বিপুল হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের মানসিকতা কাজ করছে।

 

অনেকেই ভাবছেন, এবার ভোট না দিলে হয়তো স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কার জায়গা থেকেই ভোটাররা অনেক বেশি সচেতনভাবে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তবে বাংলায় বিগত কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবারে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনে ১৬ জেলার ১৫২ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। যার জন্য অবশ্যই কৃতিত্ব প্রাপ্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। তবে তীব্র গরমে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বাংলার চার জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন চার ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার ৮৯.৯% রেকর্ড করা হয়েছে।

 

অতীতে ২০১১ সালের পরিবর্তনের ভোটে যে রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, সেটিও এবার ভেঙে গেল। নন্দীগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশেরও বেশি। দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বাধিক ৯৩.১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। কোচবিহার, বীরভূম, মুর্শিদাবাদেও ৯১ শতাংশের বেশি। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও ৯০ শতাংশ পেরিয়েছে। তুলনায় কালিম্পংয়ে ভোট কিছুটা কম, ৮১.৯৮ শতাংশ। ভোটগ্রহণ সকাল ৭টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাকি আসনগুলিতে ২৯শে এপ্রিল ভোট হবে।

 

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ৭৭টি, যেখানে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতেছিল। সরকার গঠনের জন্য ১৪৮টি আসন প্রয়োজন। বাম, কংগ্রেস এবং কিছু ছোট দলের জোট ১০% ভোট ভাগ পেলেও একটি আসনে জয়লাভ করে। ভোট চলাকালীন, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের কর্মী ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

 

তৃণমূল কর্মীরা গো ব্যাক স্লোগান দিয়ে কবিরকে বিজেপির এজেন্ট আখ্যা দেয়। কবির এমন এক এলাকা পরিদর্শনে যান যেখানে বোমা বিস্ফোরণে এক মহিলা আহত হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন এ ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে। এছাড়া, তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে উত্তর দিনাজপুরের লক্ষ্মীপুর ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যরা তিন মহিলাকে আক্রমণ করেছে, যার মধ্যে একজন মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছেন, তার গাড়ির কাঁচ তৃণমূলের আক্রমণকারীরা পাথর দিয়ে ভেঙে দিয়েছে।

READ MORE.....