৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ফল বেরোনোর পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার গঠন করছে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরেই বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছিলেন এবারে আর নবান্ন থেকে নয় রাজ্যের সরকার চলবে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী মহাকরণ থেকে। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শুরু হয়ে গিয়েছিল মহাকরণ সংস্কারের কাজ। এখনো পর্যন্ত সেই সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ না হলেও আসন্ন দেবিপক্ষের শুরুতেই বাংলার রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মহাকরণে ফিরে আসতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই বদলে যেতে পারে রাজ্য প্রশাসনের ঠিকানা।
সূত্রের খবর, আগামী ১০ অক্টোবর, অর্থাৎ মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর মহাকরণে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও পাঁচ মন্ত্রীর দপ্তরও সেখানে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর। একইসঙ্গে মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের বসার জায়গা তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে মহালয়ার আগেই রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিকভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও মহাকরণ থেকে কাজ করবেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শংকর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী-সহ মোট ছয়জনের দপ্তর প্রথম পর্যায়ে প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।মহাকরণের সংস্কার ও প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সেই বৈঠকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
শুধু মন্ত্রীদের ঘর নয়, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের জন্যও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবার প্রশাসনিক কাজ যাতে ধাপে ধাপে মহাকরণমুখী করা যায়, সেই প্রস্তুতিই চলছে বলে সূত্রের খবর। ঐতিহাসিক মহাকরণ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০১৩ সালে সংস্কারের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রশাসনিক সদর দপ্তর মহাকরণ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এরপর নবান্ন থেকেই রাজ্য সরকারের অধিকাংশ প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়ে এসেছে। এবার সরকার বদলের পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। মহাকরণের বাকি সংস্কার ও রূপান্তরের কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই কাজের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠী নিতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জল্পনার কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।















