রুশ তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলির ওপর একশো শতাংশ পর্যন্ত চড়া শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিতর্কিত বিলটি এবার পাস হলো মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে। ভারতের মতো শীর্ষ ক্রেতাদের নিশানা করে আনা এই বিধেয়কটি ২৬২-১৫৯ ভোটের ব্যবধানে হাউসে অনুমোদিত হয়েছে।
সেনেটে আগেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটি ছাড়পত্র পেয়েছিল, ফলে এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য বিলটি সরাসরি তাঁর টেবিলে পৌঁছাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিলমোহর মিললেই এটি পূর্ণাঙ্গ মার্কিন আইনে পরিণত হবে। সরকারিভাবে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ নামে পরিচিত এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের মতো দেশগুলিও রয়েছে। তবে এই বিলে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক বসানোর আইনি অধিকার বা কর্তৃত্ব দেওয়া হলেও তা চাপানো বাধ্যতামূলক করা হয়নি। পাশাপাশি বেশ কিছু ইউরোপীয় মিত্র দেশ রুশ জ্বালানি কেনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের জন্য বিলে বড়সড় ছাড়ের সংস্থানও রাখা হয়েছে।
আগামী নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এমন অবাধ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা তুলে দেওয়া নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় শিবিরের একাংশের মধ্যে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিনিধি পরিষদের রুলস কমিটি ভোটাভুটির প্রাথমিক বাধা দূর করে এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের দুই সদস্য অপ্রত্যাশিতভাবে ক্রস-ভোটিং করায় বিলটি পাসের পথ মসৃণ হয়ে যায়। আইনটি পাসের পর মার্কিন সেনেটর জিন শাহিন মন্তব্য করেন, “আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; পুতিনকে এক অকাট্য বার্তা পাঠাল মার্কিন কংগ্রেস।”
এদিকে হোয়াইট হাউসের ভূমিকা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত মাসে যেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছিলেন যে অতিরিক্ত শুল্ক ক্ষমতার বিলে ট্রাম্পের সমর্থন অনেকটাই অনুচ্চারিত, সেখানে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক দাবি— ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন টানতে নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে ট্রাম্প প্রশাসনই। মার্কিন এই পদক্ষেপে দিল্লির উপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হলেও ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট ও সংযত রেখেছে।
এ সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন বিলের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “ভারতের জ্বালানি সংগ্রহের যাবতীয় সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।” দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভারত যে কোনও বাইরের রাজনৈতিক চাপের কাছে আপস করবে না, সাউথ ব্লকের এই অবস্থানে তা ফের স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।














