রাজ্যে শিল্পায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মিলন মেলায় জমি বিতরণের অনুষ্ঠান থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পুজোর আগেই রাজ্য সরকার নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করবে।শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে তিনি জানান, হুমকি বা তোলাবাজির অভিযোগ জানাতে ১৫৫-৩৩৫ নম্বরে টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ পেলেই সরকার ব্যবস্থা নেবে।অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প-পরিবেশ প্রসঙ্গে বাম আমল ও পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার, দুই আমলকেই একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর অভিযোগ, সিপিএমের আমলে শিল্পের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছিল, আর তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমি-নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণেই সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠী রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পায়নের চেষ্টাকেও তিনি স্বীকৃতি দেন, তবে দলীয় অবস্থানকে দায়ী করেন।পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সে সময় শিল্পে বিনিয়োগ টানার বদলে শুধু ভাতা-নির্ভর নীতি নেওয়া হয়েছিল এবং শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ ব্যবস্থাই তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গড়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আম্বানি গোষ্ঠী রাজ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী এবং শীঘ্রই তাদের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যে আসছে।
বৃহস্পতিবার গৌতম আদানির হাসপাতাল প্রকল্পের ভূমিপুজো হতে চলেছে, এবং কেন্দ্রীয় উড়ান প্রকল্পে সই হবে আগামী সপ্তাহে। কলাইকুণ্ডা, বালুরঘাট, পুরুলিয়া-সহ রাজ্যে মোট পাঁচটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।বুধবারের অনুষ্ঠানে ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি হস্তান্তর করা হয়। সরকারি দাবি অনুযায়ী, এর ফলে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ওষুধ, ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বস্ত্র ও ইঞ্জিনিয়ারিং— এই খাতগুলিতে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করতে পারেন এবং সময়সীমা পেরোলে জমি ফেরত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।















